মেইন ম্যেনু

বিয়ের দিনেই বরের মৃত্যু

চট্টগ্রাম : কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। বরযাত্রীও আসার অপেক্ষায়। তবে বর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কথা ছিল দুপুরের আগেই বর সেজে হাজির হয়ে বধু নিয়ে বাড়ি ফিরবেন সৌদি প্রবাসী মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন (২৭)।

তবে বরের বাড়িতে বধু সেজে যেতে কনের হাত মেহেদীতে রাঙানো হলেও বিয়ের সানাই বাজার আগেই শেষ মুহুর্তেই খবর এলো বর আর বেঁচে নেই ! বিয়ের দিন বুধবার সকাল এগারোটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বর জয়নাল।

এমনি মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার কুম্ভারপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার মৃত আবুল হোসেন ড্রাইবারের ছেলে সৌদি প্রবাসী মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের (২৭) সাথে একই উপজেলার সুয়াবিল বারমাসিয়া গ্রামের সামশুল আলমের কন্যা পারভিন আকতারের সাথে সামজিকভাবে বিবাহের দিন ছিল বুধবার। কিন্তু বিবাহের দিনেই মৃত্যু হলো বর জয়নালের।

বরের এ অকাল মৃত্যুর রহস্য নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তার পরিবারের দাবি, জয়নালকে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেছে তারই প্রতিবেশী ভাবী রিনা আকতার (২৮)। তিনি ওই এলাকার প্রবাসী জানে আলমের স্ত্রী। যার সাথে জয়নালের এক ধরণের সম্পর্ক ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে সেই কারণেই হিংসাপরায়ন হয়ে কৌশলে খাবারের সাথে বিষ মিশেয়ে জয়নালকে হত্যা করা হয়েছে।

জয়নাল নামে বরের এক বন্ধু বলেন, ‘আমরা একসাথে সৌদি আরবে থাকি। গত ২৭ ডিসেম্বর আমরা বাড়ি আসি। তার সাথে ওই ভাবীর ফোনালাপ হতো। এখানে আসার পর, প্রায় সময় তার ঘরে যেত জয়নাল।’

স্থানীয় সাংবাদিক মাহফুজ আনাম জানিয়েছেন, জয়নালের লাশ ময়না তদন্তছাড়া দুপুর একটার দিকে চমেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে শরীর অসুস্থবোধ করলে প্রথমে নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্যকন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় জয়নালকে। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেণ কর্তব্যরত চিকিৎসক।

জয়নালের বোন জামাই আব্দুল মন্নান বলেন, ‘মূলত তিন-চার দিন পূর্ব থেকে সে অসুস্থতা বোধ করছিল। আমরা তাকে প্রথমে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদান করি। কি রোগে ভোগছিল সে তা নির্ণয় করার আগেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে জয়নাল নিজেই বলেন, ‘আমি দুপুরে বাড়ি এসে বিয়ের সবকিছু সম্পন্ন করব।’

এদিকে ফটিকছড়ি থানার ওসি মফিজ উদ্দিন বলেছেন এই ধরণের কোনও অভিযোগ তার কাছে আসেনি।






মন্তব্য চালু নেই