মেইন ম্যেনু

‘বিয়ে তাকেই করবো যে আমার সব কিছু জেনে বুঝে আসবে’

শোবিজ মাধ্যমের সব ক্ষেত্রেই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এ্যানি। নাচ, মডেলিং, অভিনয় ও উপস্থাপনা-এ পাঁচ ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ ছিল তার। সে সঙ্গে ছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা। ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের তালে তালে বেড়ে উঠেছেন। নাচ শেখার পাশাপাশি ছোটদের বিজ্ঞাপনেও অংশ নিতেন। বলা চলে বাল্যকালেই ক্যামেরার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এ্যানির। আর বড় হয়ে তো নিজেকে মেলে ধরেছেন অন্যরূপে। কিন্তু একসময় দাপিয়ে বেড়ানো মিডিয়ার এ মিষ্টি মেয়েটি হঠাৎই কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। নাচ, মডেলিং, অভিনয়, উপস্থাপনা কিংবা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্যা সবকিছু থেকে নিজেকে এখন গুটিয়ে নেয়ার মতো অবস্থা তার। গুটি কয়েক ধারাবাহিক ও বিজ্ঞাপনের কাজ করছেন কেবল। এর কারণ কি? জানতে চাইলে এ্যানি বলেন, সবকিছু তো খোলাখুলি বলা যায় না। তবে এটুকু বলবো, মিডিয়াতে এখন কাজের পরিবেশ নেই। একসময় যেভাবে নাচ অভিনয়, মডেলিং নিয়ে টানা ব্যস্ত ছিলাম পরিবেশটা নষ্ট হওয়ার ফলে এখন কাজ করছি না বলেই চলে। ভালো কোনো কাজ করতে হলে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যা কখনোই আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

এ মুহূর্তে সবাই ঈদের নাটকে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এ্যানি অপেক্ষা করছেন একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ের। আগামী ১৩ই জুন থেকে তিনি এ ধারাবাহিকের কাজে অংশ নেবেন। বর্তমানে চ্যানেল নাইনে প্রচার চলতি ‘আগুন আল্পনা’ ও এসএ টিভিতে ‘পরম্পরা’ ধারাবাহিক দুটিতে অভিনয় করছেন এ্যানি। এছাড়া সম্প্রতি রাধুনী গুড়া মশলার একটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান এ্যানি। ফু ওয়াং ফুডসের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হন। এরপর একাধিক ছোটদের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে আলোচনায় উঠে আসেন। তখন অবশ্য আলোচনার ব্যাপারটি হয়তো তেমন বুঝতে পারতেন না তিনি। সময়ের পরিক্রমায় মিডিয়ার বিভিন্ন কাজের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন এ্যানি। বড় হয়ে প্রথম বিজ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা তারিক আনামের সঙ্গে।

তখন এসএসসিতে পড়ছিলেন। হুইল সাবানের একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে নিজেকে ভালোভাবেই মেলে ধরেন। এর পরপরই পুষ্টি আটা, বাংলালিংক, প্রাণ ক্যান্ডি, প্রাণ চিপস, সুপার এনার্জি বাল্ব, তালুকদার প¬াস্টিক, সুরেশ সরিষার তেল, পিএইচপি এরাবিয়ান হর্সসহ একাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছেন । সপ্তম শ্রেনীতে পড়াকালীন ‘অব্যক্ত আপন’ নামের একটি টিভি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক হয় তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই নাচ, অভিনয় আমাকে চুম্বকের মতো টানত। তাছাড়া সে সময় থেকে কাজ করতে করতে মিডিয়া আমার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আমার মা খুবই সাহায্য করেন। আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার গুরুত্ব দিতেন।

অভিনয়ের গল্প তার এখানেই শেষ নয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়ে যায় নাটকের অভিনয়ে। ‘সাদা শাড়ি লাল পাড়’ নামে একটি নাটকের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ হয় তার। এরপর ‘রমিজের আয়না’, ‘চরাচর’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে নিজের ক্যারিয়ার আরও এক ধাপ উন্নীত করান এ্যানি। টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। ‘রংধনু’ নামের সে ছবিটির কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও মুক্তির দেখা নেই। তাই চলচ্চিত্র নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই এ্যানির মাঝে। তিনি বলেন, সেই কবে ছবিটির কাজ করেছি। মুক্তির আশা ছেড়েই দিয়েছি। আর আমার এখন কোনো আগ্রহও নেই চলচ্চিত্র নিয়ে। তাছাড়া নায়িকা হতে এখন আর শিল্পীর প্রয়োজন হয় না। অভিনয় না জানলেও নায়িকা হওয়া যায়।

আমি নিজেকে অনৈতিক পথে পরিচালনা করতে পারবো না। তাই এখন নাটক, ফিল্ম কিংবা উপস্থাপনা সব কিছু থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নিয়েছি। মিডিয়ার কাজ তেমন করছেন না এ্যানি। তাহলে সংসার নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি পরিবারের মতেই বিয়ে করবো। প্রায়ই পাত্র আসে। কিন্তু মিডিয়ার মেয়ে বলে অনেকে নাক সিঁটকায়। তাই বিয়ে তাকেই করবো যে আমার সব কিছু জেনে বুঝে আসবে।-এমজমিন






মন্তব্য চালু নেই