মেইন ম্যেনু

বিয়ে না দেওয়ায় মামাতো বোনের স্বামীকে খুন!

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের দুই দিনের মাথায় খুন হয়েছেন সুহেল আহমদ নামের এক যুবক। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শাহীন মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে। তিনি নিহত সুহেল আহমদের স্ত্রী জহুরা বেগমের ফুপাত ভাই। শাহীন মিয়ার সঙ্গে জহুরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিহত সুহেলের বোন জামাই আবু আলী।

পুলিশ ও নিহত সুহেলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের শামসুল আলমের মেয়ে জহুরা বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে সুহেল আহমদের বিয়ে হয়। সুহেল পরের দিন স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সন্ধ্যায় সুহেল স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দেন। এ সময় সেখানে থাকা পাশের হাসনাবাদ গ্রামের শাহীন মিয়া দা দিয়ে সুহেলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুহেলকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত সুহেলের বোন জামাই আবু আলী জানান, কনের মা-বাবাকে সালাম করার পর তাঁর দাদিকে সালাম করার সময় মাথা নোয়াতেই শাহীন সুহেলকে দা দিয়ে কোপাতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা জানতে পেরেছি, শাহীন মিয়া জহুরা বেগমের ফুপাত ভাই। তাঁর সঙ্গে জহুরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁর সঙ্গে জহুরাকে বিয়ে না দেওয়ার কারণেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই কাজ করেছেন।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন আটক শাহীনের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন শাহীন মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। শাহীন মিয়া দাবি করেন, তাঁর মামাত বোন জহুরা বেগমকে বিয়ে করার জন্য তিনি মামার পরিবারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয়। এই ক্ষোভে তিনি জহুরার স্বামীকে খুন করেন। এই ঘটনায় নিহত সুহেলের পরিবার এখনো কোনো মামলা করেনি।

প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তাবের ব্যাপারে আটক শাহীন মিয়ার ও কনে জহুরা বেগমের পরিবারের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কনে ও আটক শাহীন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা মর্মাহত। শাহীন মিয়া ও জহুরা বেগমের মধ্যে প্রেমের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।






মন্তব্য চালু নেই