মেইন ম্যেনু

‘বিয়ে নিয়ে এখনও কিছু ভাবার সময় হয়নি’

এবার ঈদে এক ডজনেরও বেশি নাটকে দেখা যাবে মৌসুমী হামিদকে। নতুন এসব নাটকের কয়েকটির কাজ নিয়ে এখনও তাকে শুটিং বাড়ি অবস্থান করতে হচ্ছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। ঈদ ব্যস্ততার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের ঈদ উপলক্ষে বেশি কাজ হচ্ছে। নতুন বেশ ক’টি নাটকের শুটিং হয়েছে। গুণী অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করছি এবার। ঈদ উপলক্ষে হরেক রকমের চরিত্রে উপস্থিত হবেন মৌসুমী। আর প্রতিটিই তার নিজের পছন্দেরই বলে জানান। এবারই প্রথম তাকে দেখা যাবে বোবা মেয়ে, রাক্ষসকন্যা সহ আরও ভিন্নধর্মী কয়েকটি চরিত্রে।

সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় ‘আশার আলো’ নাটকটিতে মৌসুমীকে দেখা যাবে একটি বোবা মেয়ের চরিত্রে। অন্যদিকে রাজীব হাসানের ‘নীলকমল’ নাটকে রাক্ষসকন্যা কামীনির চরিত্রে। এমন প্রতিটি নাটকেই ভিন্নতা বজায় রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মৌসুমী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালো লাগার গল্পগুলোতেই কাজ করবার চেষ্টা থাকে সব সময়। তবে কিছু চরিত্র আছে যা মনে থাকার মতো। এ দুটি নাটকের চরিত্র আমায় বেশ দোলা দিয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি কাজ করেছি যা মনে রাখার মতো। জাহিদ হাসান, রওনক হাসান, আবু হায়াত মাহমুদ, মিজানুর রহমান আরিয়ান-এদের নাটকের গল্পের চরিত্রগুলো বেশ ভালো ছিল। অভিনয় তো দাপিয়ে করছেন। কিন্তু কাজের ব্যাপারে কতটুকু যতœশীল মৌসুমী। বেশি কাজ করতে গিয়ে কিংবা এতগুলো চরিত্রে নিজেকে রূপ দিতে গিয়ে কাজের মান খারাপ হচ্ছে না তো?

এ ব্যাপারে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার খ্যাত এ অভিনেত্রী বলেন, শুধু অভিনয় না, আমি আমার প্রতিটা কাজেই বেশ যতশীল। অভিনয়টা আগে নিজের মনে লালন করি। অভিনয় যেহেতু আমার ভালোলাগা বা ভালোবাসার জায়গা। তাই একটু বেশি যত নিতে হয়। আমার গল্পের চরিত্রগুলোকে আগে মনে ধারণ করে নেই। তারপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। আর মানের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যেহেতু কাজটা মনে লালন করি তাই খারাপ হওয়ার চান্স থাকে না। টিভি নাটকে দীর্ঘদিনের পথচলা। এখানে সফল হওয়ার পর এখন চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করছেন। দুই মাধ্যমের মধ্যে কি পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন মৌসুমী?

জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই অনেক পার্থক্য পেয়েছি। নাটক তো হচ্ছে একটা স্কুলিং। এখানে অভিনয় শেখার বড় একটি জায়গা। আর চলচ্চিত্রের ব্যাপারটাই আলাদা। এখানকার কাজটা বড় পরিসরে হয়। আর বড়পর্দা হলো প্রত্যেক শিল্পীর জন্য একটি স্বপ্নের মাধ্যম। এখানে এসে আমি আমার অভিজ্ঞতাটা শতভাগ কাজে লাগাতে পেরেছি। নিজেকে নিয়ে কখনো মূল্যায়ন করি না। তবুও বলবো, অভিনয়টা টিভি নাটকে ভালোভাবে রপ্ত করেছি। আর সেটা এখন বড়পর্দায় এসে কাজে লাগাতে পারছি। আশা করছি এটা সবসময় ধরে রাখবো। টিভি নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা অনেক দিনের।

এ সময়ের অবস্থার আলোকে মৌসুমী বলেন, অল্প কয়েকজন নির্মাতা ছাড়া চোখে পড়ার মতো ভালো কাজ করছেন এমন কেউ এখন নেই। সবাই একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকেন। কে কত নাটক বানাতে পারেন সে ব্যস্ততা সবার মধ্যে লক্ষণীয়। দেখা গেছে, একশ’ কিংবা দেড়শ’ নাটক নির্মাণ কবে হবে আর সেটার জন্য গ্র্যান্ড পার্টি দেবেন সেটার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সবাই। কোয়ালিটির কথা ভাবছেন না কেউ। বিশেষত গল্পে ভিন্নতা নেই। অভিনয় নিয়ে তো বেশ ব্যস্ত মৌসুমী। কিন্তু বিয়ের যে বয়স হয়েছে সেটা কি ভুলে যাচ্ছেন তিনি? বিয়ের ব্যাপারে কি ভাবছেন ‘রোশনী’ খ্যাত এ অভিনেত্রী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার বিয়ে কখন হবে সেটা তো উপরওয়ালাই জানেন। আর বিয়ে নিয়ে এখনও কিছু ভাবার সময় হয় নি। আমার কাছে আগে ক্যারিয়ার তারপর বিয়ে।

উল্লেখ্য যে, মৌসুমী হামিদ লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনের আগে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার এক কলেজ প্রভাষকের বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন। পারিবাবিক ভাবেই তাদের বিবাহ হয়েছিল এবং তাদের সংসার জীবনও স্থায়ী হয়েছিল বেশ অনেক মাস। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে তিনি লাক্স চ্যানেল আই তারকা প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানার আপ হন।






মন্তব্য চালু নেই