মেইন ম্যেনু

বুনিওন্স হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির জয়েন্টের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বুনিওন্স বলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে হেলাক্স ভাল্গাস ডিফরমিটি বলে। যখন আপনার শরীরের ওজন পায়ের আঙ্গুলের জয়েন্টের উপর ও রগের উপর পড়ে তখন এই সমস্যাটি বৃদ্ধি পায়। তখন বৃদ্ধাঙ্গুলির জয়েন্টের হাড়টি বড় হয়ে বাহির হয়ে আসে। যে কারো পায়েই বুনিওন্স হতে পারে। তবে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি হতে দেখা যায় এই অঙ্গবিকৃতি। বিশেষজ্ঞদের মতে আঁটসাঁট ও হাইহিলের জুতা পরা অথবা খুব চাপানো জুতা পরলেও অস্থির বিকৃতি জনিত সমস্যাটি হতে পারে। অন্য সম্ভাব্য কারণ গুলো হল – বংশানুক্রমিক পায়ের গঠন, পায়ের পাতায় আঘাত পাওয়া, জন্মের সময়ের পা বিকৃতি ও বাতের কারণেও বুনিওন্স হতে পারে।
যেহেতু এটি পায়ের জয়েন্টের মধ্যে হয়ে থাকে তাই প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে এবং পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নমনীয়তা কমে যেতে পারে। এছাড়াও আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে যায়, যন্ত্রণা হয়, কড়া পরে ও ফোস্কা পড়তে পারে এবং অন্য আঙ্গুলগুলোর দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে জুতা পরতে অসুবিধা হয়।
বুনিওন্স সময়ের সাথে সাথে খারাপ হয় ও বৃদ্ধি পায়। কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে উপসর্গগুলো কমানো যায় কিন্তু এই অঙ্গবিকৃতি পুরোপুরিভাবে সংশোধন করা সম্ভব নয়। মারাত্মক আকারের অস্বস্তির ক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে। বুনিওন্স এর উপসর্গগুলোকে সহজ করতে সাহায্য করবে যে ঘরোয়া প্রতিকারগুলো তা হল-

১। বুনিওন প্যাড
যদি প্রাথমিক অবস্থায় বুনিওন শনাক্ত করতে পারেন তাহলে ফার্মেসি থেকে বুনিওন প্যাড কিনে আনুন এবং পরুন। এটি ব্যথা কমতে ও বৃদ্ধাঙ্গুলির বর্ধিতাংশ সঠিক স্থানে ফিরে যেতে সাহায্য করবে। এটি জুতা পরতেও সাহায্য করবে।

২। বরফ
বুনিওন্স হলে অনেকক্ষণ যাবত হাঁটলে বা দাড়িয়ে থাকলে প্রায়ই কালশিটে পড়ে ও জ্বলুনি হয়। ব্যথা ও প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বরফের থেরাপি দেয়া একটি ভালো উপায়। এর ফলে প্রান্তীয় স্নায়ুতে অস্থায়ী অসাড়তা তৈরি হয় এবং ব্যথা কমে। এর জন্য একটি পাতলা তোয়ালের মধ্যে বরফ গুঁড়া করে নিয়ে আঙ্গুলটি পেঁচিয়ে রাখুন। ৫-১০ মিনিট এভাবে রাখুন এবং তারপর ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবারও পুনরাবৃত্তি করুন। ২-৩ বার এভাবে করতে পারেন। যখন প্রয়োজন হয় তখনি এই সাধারণ প্রক্রিয়াটি করতে পারেন।

৩। ম্যাসাজ
নিয়মিত ম্যাসাজ করলে বুনিওন্সের সমস্যাটি কমতে এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। নারিকেল তেল, অলিভ ওয়েল বা ক্যাস্টর ওয়েল সামান্য গরম করে আক্রান্ত স্থানে ১০ মিনিট মালিশ করুন। দিনে ২-৩ বার এভাবে করুন।

৪। পায়ের ব্যয়াম
পায়ের ব্যয়াম করলে আঙ্গুল নমনীয় হয়, ব্যথা কমে এবং বুনিওন এর বৃদ্ধি ব্যহত হয় এবং সার্জারির প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসে আক্রান্ত পাটি অন্য পায়ের উরুর উপরে রাখুন। তারপর একটি টেনিস বল আঙ্গুলের নীচে রেখে ঘোরাতে থাকুন। প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট এটি করুন। অথবা চেয়ারে বসে আক্রান্ত পায়ের তলাতে এক হাত দিয়ে চেপে ধরুন এবং অন্য হাতে পায়ের আঙ্গুলের ভেতরে হাতের আঙ্গুলগুলো ঢুকান এবং সামনে পেছনে বাঁকানোর চেষ্টা করুন। অথবা পায়ের উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তারপর পায়ের আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন ১০ মিনিট এবং এরপর বাঁকা করে বা কুঁচকে রাখুন ১০ মিনিট। দিনে কয়েকবার এই ব্যায়ামগুলো করতে পারেন যা খুবই সহজ। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরো কার্যকরী ব্যয়াম শিখে নিতে পারেন।

৫। হলুদ
বুনিওন নিরাময়ে হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। হলুদের কারকিউমিন ব্যথা ও প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। আধা চামচ হলুদের সাথে সামান্য অলিভ ওয়েল মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিন। আক্রান্ত স্থানে এই পেস্টটি লাগান। কয়েকদিন যাবত দিনে দুই থেকে তিন বার লাগান। এক গ্লাস দুধ অথবা এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানির সাথে ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দুই বার পান করুন।
এছাড়াও ক্যামোমিল চায়ের টি ব্যাগ উষ্ণ অবস্থায় বুনিওন এর স্থানে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ, ইপসম লবণ উষ্ণ গরম পানিতে মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন, শুকনো লঙ্কা বা লাল মরিচ টুকরা করে বুনিওনের উপর ঘসে এর উপরে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে একটি পাতলা কাপড় বা গজ দিয়ে বেধে রাখুন।






মন্তব্য চালু নেই