মেইন ম্যেনু

বৃদ্ধার বাড়ি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিস!

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে সুফিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধার বাড়ি দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের অফিস বানানোর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামধারী একদল সন্ত্রাসী ওই বাড়ির একটি কক্ষ দখল করে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি শামীম ওসমানের ছবি সাঁটিয়ে দেয়া হয়। তবে ওই বৃদ্ধা নারী এ ঘটনার প্রতিবাদে সারাদিন রোজার পরও ঘরে বসে অনশন পালন করেন।

গোদনাইল এনায়েতনগর এলাকার নিরন সরকারের স্ত্রী বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম জানান, গত কয়েকদিন আগে যুবলীগ নেতা প্রসন চায়ের দোকান করার জন্য তার ছেলের কাছে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রুমটি ভাড়া নেয়। কিন্তু তিনি জানতে পারেন যে, তারা চায়ের দোকান নয়, আওয়ামী লীগের অফিস বানাবে। তাই ১৫ দিন আগে তিনি প্রসনের কাছে টাকা ফেরত দিয়েছেন।

তারপরও গত রোববার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন প্রধান, যুবলীগ নেতা মমিনুল ইসলাম পুষণ, সুলতান মাহমুদসহ ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা আমার বাড়ির ওই কক্ষটি জোরপূর্বক দখল করে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অফিস বানানোর কাজ শুরু করে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের ছেলে যুবলীগ নেতা মমিনুল আলম পুষণ বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে আমি বৃদ্ধা সুফিয়ার বাড়ির একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলাম চায়ের দোকান ঘর করার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগের অফিস বানানো হবে জেনে সুফিয়া আমার ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী বলেন, ‘এনায়েতনগরের ওই আওয়ামী লীগের অফিসটির ব্যাপারে আমি সমর্থন করি না। বৃদ্ধা নারী সুফিয়া বেগম অগ্রিমের টাকা ফেরত দিয়েছেন, তা আমি জানি। মোবারক গংদের বলেছি বাড়ির মালিক যেহেতু ভাড়া দিবে না সেহেতু জোর করে ওখানে কিছু না করার জন্য। তাছাড়া এমপি একেএম শামীম ওসমান এসব পছন্দ করেন না এবং তার নলেজেও এসব নেই।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনা আমার জানা নেই, তারপরও যদি কেউ জোর করে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কারো বাড়ি দখল করে অফিস নির্মাণ করে থাকে, তাহলে সেটা গুরুতর অপরাধের কাজ করেছে। এটা অন্যায়, আমি এটা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।’






মন্তব্য চালু নেই