মেইন ম্যেনু

বৃষ্টিতেও শান্তি নেই পুলিশের

পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণার একটা জায়গা তৈরি হয়েই আছে। তবে পুলিশকেও সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে নিজের কর্তব্য পালন করতে হয় এ বিষয়টিও ভাবা দরকার। বুধবার এমনই একটি দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয়।

দুপুর আড়াইটা। স্বচ্ছ আকাশ মুহূর্তেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে এলো। বৃষ্টি নামতে পারে এমন আশঙ্কায় বাংলামোটরের মোড়ে সিগন্যাল ছাড়তেই বিভিন্ন দিক থেকে দ্রুতবেগে স্থান ত্যাগ করছে বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, জিপ ও মোটরসাইকেলসহ যন্ত্রচালিত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। আশঙ্কাকে সত্যি করেই ঝুম বৃষ্টি নামলো। বৃষ্টির সঙ্গে পড়লো শিলাও।

শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে পথচারীরা কারওয়ানবাজারমুখী রাস্তার পশ্চিম পাশের মুসলিম সুইটসসহ আশেপাশের দোকানপাটে আশ্রয় নিলেন। গুটি কয়েকজন রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পার্ক করে দিলেন ভো দৌড়। কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলকেও বন্দুক হাতে দৌড়ে মার্কেটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে দেখা গেল।

ঝুম বৃষ্টির মাঝে কাকভেজা হয়ে হঠাৎ করে পাগলের মতো ছুটোছুটি শুরু করলেন একজন পুলিশ সার্জেন্ট। চিৎকার করে বলতে থাকলেন ভিআইপি মুভমেন্ট, গাড়ি সরান। রাস্তার ওপর কেউ থাকবেন না। একটু এগিয়ে এসে নিজ হাতে মোটরসাইকেল সরাতে শুরু করলেন। প্রাইভেট কারের চালককে ধমকে কারওয়ান বাজারের দিকে চলে যেতে বাধ্য করলেন। রাস্তার উল্টোদিকে তখন ব্যাপক যানজট।

যে পুলিশ সার্জেন্ট কারওয়ান বাজারমুখী রাস্তা খালি করছিলেন তিনি মুসলিম সুইটসের সামনে এসে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, ‘রাষ্ট্রপতি আইস্যা পড়তাছে আর আপনারা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে রাস্তার ডিউটি ফেলে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। ভিআইপি ডিউটির চেয়ে কী বৃষ্টিতে না ভেজা বড় হলো!’

মাথা নিচু করে ইয়েস স্যার, ভুল হয়ে গেছে, এক্ষুণি যাচ্ছি বলে দৌড়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ালেন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে চাওয়া সেই পুলিশ সদস্যরা। মিনিট দুই তিনেক পর একাধিক সার্জেন্টকে তৎপর হতে দেখা গেল।

এ সময় এক বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও দুই তরুণী দুটি পোটলা হাতে রাস্তার পূর্ব দিক থেকে এসে মুসলিম সুইটমিট দোকানের সামনে এসে বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় নিতে চাইলে দোকানদার খেঁকিয়ে উঠে বললেন, এক্ষুণি প্রেসিডেন্ট আইবো, পোটলায় কি আছে জানিনা, আপনি অন্য কোথায় যান। ততক্ষণে বৃদ্ধ বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু।

দোকানদারের উদ্দেশে বললেন, ‘বাবারে আমরা অসহায় গরিব, আমরা প্রেসিডেন্টের কি ক্ষতি করমু।’

মিনিট দশেক পর বহরসহ সাঁই সাঁই আওয়াজ তুলে খালি রাস্তা দিয়ে কারওয়ান বাজার অভিমুখে চলে গেল রাষ্ট্রপতির গাড়ি।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সার্জেন্ট ও পুলিশ কনস্টেবল বলেন, সরকারি চাকরি করি, রোদ আর বৃষ্টি কি, ডিউটি করতেই হয়। তবে ভিআইপি মুভমেন্টের সময় এক ধরনের ভয়ে থাকি। অনেক সময় পথচারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করতে হয়। ভিআইপি মুভমেন্টের সময় গাড়িতে র‌্যাকার লাগানো, মোটরসাইকেল ফেলে কিংবা সরিয়ে দেয়ার মতো অপ্রীতিকর কাজও করতে হয় বলে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

মিনিট পনের থমকে থাকা যানবাহনের চাকা সচল হয়। রাস্তায় ফিরে আসে পুরনো সেই চাঞ্চল্য।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই