মেইন ম্যেনু

বৃষ্টি কেড়ে নিল তৃতীয় সেশনের খেলাও

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ফতুল্লা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে গেছে।

বৃষ্টির আগে পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৬২ রান। হরভজন সিং ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন অপরাজিত আছেন।

শুক্রবার তৃতীয় দিনে মোট ৪৭.৩ ওভার খেলা হয়। এদিন ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রান করে ভারত।

তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ে বৃষ্টি শুরু হলে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। ১.১০ মিনিটে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরলেও মাত্র ৪ ওভার ১ বল খেলা হয়। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় আরো ১০ মিনিট খেলা বন্ধ। ১.২৫ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার পর শুরুতেই সাফল্য এনে দেন সাকিব আল হাসান। সাকিবের ঘূর্ণিতে বধ মুরলি বিজয়। সাকিবের বল হাঁটু মুড়ে বসে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন ১৫০ রান করা বিজয়।

সাকিবের পর বল হাতে আলো ছড়ান লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন। তরুণ এই তুর্কির গুগলিতে উইকেট হারান মহেন্দ্র সিং ধোনির পরিবর্তে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে জায়গা পাওয়া ঋদ্ধিমান সাহা। ৬ রানে আউট হন সাহা।

এরপর সাকিব আবারও বোলিং এসে ৯৮ রান করা অজিঙ্কা রাহানেকে সরাসরি বোল্ড করেন। সাকিবের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে স্ট্যাম্প হারান রাহানে। ১০৩ বলে ১৪ চারে ৯৮ রান করেন ডানহাতি রাহানে।

সাকিব আল হাসান ৪টি ও জুবায়ের হোসেন লিখন ২টি উইকেট পেয়েছেন। সাজঘরে ফিরেছেন শিখর ধাওয়ান (১৭৩), রোহিত শর্মা (৬) বিরাট কোহলি (১৪), মুরলি বিজয় (১৫০), ঋদ্ধিমান সাহা (৬) ও অজিঙ্কা রাহানে (৯৮)।

এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুতে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরান সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি ওপেনার ধাওয়ান ব্যক্তিগত ১৭৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। ১৯৫ বলে ২৩ বাউন্ডারিতে ১৭৩ রান করেন ধাওয়ান। সাকিবের করা ইনিংসের ৬৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ডাউন দ্য উইকেট এসে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন ধাওয়ান। সহজ ক্যাচ ধরতে কোনো ভুল করেননি সাকিব। উদ্বোধনী জুটিতে ধাওয়ান ও বিজয় যোগ করেন ২৮৩ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে বিজয়ের সঙ্গে ব্যাটিং করতে ক্রিজে আসেন রোহিত শর্মা। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ডানহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। সাকিবের হাওয়ায় ভাসনো বল ড্রাইভ করতে গিয়ে অফস্ট্যাম্প হারান ৬ রান করা রোহিত। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন ভারতের নতুন টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কিন্তু বেশিক্ষণ দীর্ঘায়িত হয়নি বিরাটের ইনিংস। ক্রিজে আসার পর থেকেই জুবায়ের হোসেনকে খেলতে সমস্যা হচ্ছিল বিরাট কোহলির।

জুবায়েরের করা ৭১তম ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি কোহলি। এক ওভার পর আবারও বোলিং এসে কোহলিকে নিজের স্পিনে বিভ্রান্ত করেছিলেন জুবায়ের। এরপর একটি ফুলটস ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হাঁকান কোহলি। কিন্তু বিচলিত হননি জুবায়ের। তৃতীয় দিনে ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে বিরাটকে বোল্ড করেন বাঁহাতি এই লেগস্পিনার।

জুবায়েরের গুগলিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে বল কোহলির ব্যাটের কানায় লেগ সোজা স্ট্যাম্পে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পরে। টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম ইনিংসেই ফ্লপ কোহলি। ২২ বলে ১৪ রান করেন তিনি। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন সেঞ্চুরিয়ান বিজয় ও রাহানে। চতুর্থ উইকেটে এই জুটির সংগ্রহ ৮৮ রান।

এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিনের শুরুতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন বিজয়। টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় মাঠে নামতে পারেনি কোনো দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন বিজয়। শুক্রবার সেঞ্চুরি তুলে নিতে ১১ রানের প্রয়োজন ছিল ডানহাতি এই ওপেনারের। তাইজুল ইসলামের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার স্পর্শ করেন বিজয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি বিজয়ের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। আর প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। ২০১ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় সেঞ্চুরি তুলে নেন বিজয়।

বুধবার প্রথম দিন ৫৬ ওভারে ২৩৯ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। গত দুদিন সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। কালো মেঘকে কাটিয়ে দু-একবার সূর্য উঁকি দিলেও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকেই আকাশ ঝকঝকে। পরিষ্কার আকাশ। গত দুদিন যেই মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে তার ছিটে-ফোঁটাও পাওয়া গেল না শুক্রবার সকালে। প্রথম সেশনের খেলা তাই ভালোমতোই শেষ হয়। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ই আবার বৃষ্টি হানা দেয় ফতুল্লায়।

বুধবার প্রথম দিন ৫৬ ওভার খেলা হলেও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। শুক্রবার সকাল দশটার পরিবর্তে সাড়ে নয়টায় মাঠে নামে দু’দল। গত দুদিনে বৃষ্টির জন্যে ১২৪ ওভার খেলা হয়নি। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আধা ঘন্টা আগে ম্যাচ শুরু করেছেন আম্পায়াররা। টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে একই সময়ে ম্যাচ শুরু হবে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই