মেইন ম্যেনু

বেকার থাকাটা ভীষণ কষ্টের ॥ রাত যেন ফুরোতেই চায় না

‘খরচের টাকা শেষ হয়ে গেলে বাবাকে ফোন করি। কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না, টাকা লাগবে। কিছু না বলে চুপ করে থাকি অনেকক্ষণ। তবে বাবা ঠিকই বুঝতে পারেন। প্রচণ্ড হতাশা আর বিষণ্নতা এসে ভর করে। অসহায়ত্বের লজ্জায় মাথাটা নুইয়ে আসে।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ২৬ বছরের যুবক মাহমুদুল হাসান। তিন বছর ধরে বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে হাঁটছেন। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে হয়ে পড়েছেন ক্লান্ত।

মাহমুদুলের সঙ্গে কথা হয় ২০ জুন। চোখের নিচে কালি, অবিন্যস্ত চুলে হালকা গড়নের যুবকটি বলে চলেন নিজের অপারগতার কথা। শুরু করেন শৈশব দিয়ে। ছেলেবেলায় স্বপ্ন দেখতেন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবেন। এর জন্য সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই শুরু করেন প্রস্তুতি। রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ভর্তি হন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তবে উচ্চমাধ্যমিকে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় ভর্তি হতে পারেননি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই থেমে যায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হওয়ার স্বপ্ন।

তবে থেমে যাননি মাহমুদুল। নতুন প্রেরণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন। ২০১১ সালে সম্পন্ন করেন স্নাতক। ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর। এরপর থেকেই ছুটছেন চাকরির পেছনে। রাজশাহী ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন ঢাকায়। তবে এখনো দেখা মেলেনি চাকরি নামের সোনার হরিণটির।

রংপুর নগরের লালবাগ কলেজপাড়ার ছেলে মাহমুদুল। সরকারি চাকরিজীবী বাবা, গৃহিণী মা আর একমাত্র ছোট বোন সোমাকে নিয়ে বেশ আনন্দেই কেটে যেত সময়। কিন্তু পড়াশোনার গণ্ডি পেরোতেই পরিবার থেকে তাগিদ আসে কিছু করতে হবে। আর নিজের ভেতরের তাগিদ তো আছেই। চাকরির বাজারে নেমে প্রচণ্ড ধাক্কা খান মাহমুদুল। চাকরির পসরা সাজানো সব দোকানে গিয়ে বারবার ফিরে আসতে হয়েছে শূন্য হাতে। সদ্য পাস করা এক তরুণের ঝুলিতে মেধা ও দক্ষতা থাকতে পারে অভিজ্ঞতা তো নয়। কিন্তু প্রায় সব চাকরির জন্যই ‘অভিজ্ঞতা আবশ্যক’। মাহমুদুল তবু পড়াশোনার সঙ্গে সংগতি রেখেই আবেদন করে চলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগে, যার বেশির ভাগ থেকে কোনো সাড়া মেলে না। যদিওবা আসে, তাতে অভিজ্ঞতার অভাবে বাদ পরে যান। তারপরও হাল ছাড়েননি। তাই চাকরির বাজারে নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলতে সম্প্রতি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন।

৩৩ এবং ৩৪তম বিসিএসে অংশ নিয়েছেন। তবে এখানেও ভাগ্য সহায় হয়নি তাঁর। তাই বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছেটা বাদই দিয়েছেন। জীবন এখন দুর্বিষহ মাহমুদুলের কাছে। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে সর্বত্র একই প্রশ্ন—‘এখনো তোমার চাকরি হয়নি?’ তখন নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে। অনেক সময় বেঁচে থাকার কারণটাই খুঁজে পান না। এর কারণ হিসেবে মাহমুদুল বলেন, একজন ছেলের স্নাতকোত্তর পাস করার পর বেকার থাকাটা ভীষণ কষ্টের। একেকটা দিন অনেক লম্বা, আর রাত তো কখনো কখনো ফুরোতেই চায় না।’ প্রতি মাসে বাবার কাছ থেকে খরচের টাকা নেওয়ার গ্লানি কেড়ে নেয় মাহমুদুলের রাতের ঘুম।






মন্তব্য চালু নেই