মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে ছাত্রলীগের দুই দলের বিক্ষোভ মিছিল-অস্ত্র মহড়া, সহকারি প্রক্টর লাঞ্ছিত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) এক ছাত্রীকে উত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের একটি দলের মানব বন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল এবং অপর দলটির অস্ত্রসহ শোডাউন দিতে দেখা গেছে। গতকাল তাদের দুই দলের মারামারির ঘটনার জের ধরে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

আজ বেলা সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান হাদী ও তার সহকর্মীরা এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনস(এআইসি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্যক্তকারির উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর,কাউন্সিল শাখা সহ বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয় তারা।

বিক্ষোভ শেষে তারা রেজিস্টার কার্যালয়ে গিয়ে উত্যক্তকারির যথোপযুক্ত বিচার দাবী করেন। এজন্য তারা রেজিস্টার মোরশেদ উল আলম রনিকে ৬ ঘন্টার সময় বেধে দেন। অন্যথায় ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুমকী দেন ছাত্রনেতা হাদিউজ্জামান হাদী।

অপর দিকে দুপুর দেড়টায় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহদী হাসান শিশিরের নের্তৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল বিভিন্ন অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে হাদির দলকে মারার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে।এ সময় তাদের হাতে লাঠি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। মহড়ার সময় ছাত্রলীগ নেতারা হাদীউজ্জামানকে উচ্চস্বরে ডাকতে দেখা যায়।

এরপর ঘন্টা যাবত পুলশফাঁড়ির সামনে অবস্থান গ্রহণ করে শিশির-মাহমুদের দল।

এ সময় স্বসস্ত্র ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ব বিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শাহীনুর রহমান।

সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাতকারে শাহীনুর রহমান বলেন, ‘যাতে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে এজন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আমি ছাত্রলীগ নেতাদের সামনে যাই। আমি তাদেরকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে নিষেধ করলে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম জয় আমার দিকে তেড়ে আসে। সে আমাকে বলতে থাকে ‘হু আর ইউ’, আপনি কিসের প্রক্টর? আমরা আপনাকে মানিনা। আপনি কয়দিন প্রক্টর থাকেন দেখা যাবে। এ সময় সে আমাকে আঙ্গুল নিচু করে কথা বলতে বলে। ছাত্রলীগ সভাপতি শিশির ও সম্পাদক মাহমুদ সেখানে উপস্থিত থাকলেও তারা তাকে এমন আচরণ করতে নিষেধ করেনি।’

এ বিষয়ে জানতে মেহেদি হাসান শিশিরকে ফোন দিলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বরাবরের মত আজও(মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া ও প্রক্টর লাঞ্চিতের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, নিজেকে নিয়েই অনেক ঝুঁকি বোধ করছি। কখন যে কার হাতে মার খাই। আমি কীভাবে অন্যের নিরাপত্তা দেব। তিনি এ বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

উত্যক্তের শিকার সিএসই বিভাগের ছাত্রীটি গতকাল কোতয়ালি থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শাওন আহমেদ শুভ ৪/৫ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাস্তায় যাতায়াতের পথে তাকে প্রেম নিবেদন সহ বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিল।কিন্তু ছাত্রীটি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৪/৫ দিন পূর্ব থেকে আরো বেশি করে উত্যক্ত করা সহ অ্যাসিড নিক্ষেপ ও মারার হুমকি দেয়।এরপর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ছাত্র হাদিউজ্জামান হাদী ও ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী রাজকে জানায়।

ছাত্রীটি অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বিকেল ৩ টায় ক্লাস শেষে ফেরার পথে শুভ সহ আদনান, শামীম ও ৬/৭ জনকে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র হাতে দেখলে বিষয়টি হাদী ও রাজকে জানাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মারামারি ঘটে।

উত্যক্তের অভিযোগকরী মেয়েটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এজাহারে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।

গতকালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৬ টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির সহ তার দলের ১৫/২০জন লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সর্দারপাড়ার সাগর পেলেস ছাত্রাবাসে এসে ভাংচুর চালায় এবং ছাত্রলীগ নেতা হাদী, রাজ, তিতাস চন্দ্র সহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে।তৎক্ষণাৎ আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়।

এ বিষয়ে তাদের এক ছাত্রলীগ নেতাকে ফোন দিলে বিষয়টির ব্যাপারে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই