মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে বাংলা বিভাগের নতুন বিভাগীয় প্রধান প্রবন্ধকার ও গবেষক ড. সাইদুল হক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি)বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুল হক শিমুল বিশ্বাসকে আগামী ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর স্থাপনকল্পে প্রণীত ২০০৯ সালের ২৯ নং আইনের ধারা ২৮(২) অনুসারে আজ বিভাগীয় অফিসে পাঠানো রেজিস্টার(ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

১২ আগস্ট থেকে এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।ইতোমধ্যে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে তিনি আজ জানিয়েছেন।

আগামী ১৬ আগস্ট রবিবার বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হবে। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারির পক্ষ থেকেও সাদরে গ্রহণ করা হবে এই গুণী মানুষটিকে। সাথে সাথে বিদায় জানানো হবে বর্তমান দায়িত্বরত বিভাগীয় প্রধান ড. নাজমুল হক কে।

ড. সাইদুল হক শিমুল বিশ্বাস বহু গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ।তিনি ১৯৬৭ সালের ৩ মে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন।জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ অনার্স এবং এমএ পাস করেন।১৯৯৩ সালে ১৪শ বিসিএস এর মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কামশন(ইউজিসি)’র ফেলো হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নজরুল সাহিত্যে পৌরাণিক প্রসঙ্গে গবেষনায় পিএইচ ডি অর্জন করেন।সবশেষে তিনি ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।তিনি এক সময় বেরোবি জনসংযোগ,তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের দায়িত্বেও ছিলেন।

প্রবন্ধকার ও গবেষক শিমুল মাহমুদ কবি হিসেবে পরিচিত হলেও এতোমধ্যে কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর অবস্থান দৃঢ় রয়েছে।এই গুণী মানুষটির বিভিন্ন কবিতা,সাহিত্য,উপন্যাস রচিত হয়েছে।তাঁর রচিত কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে-মস্তিষ্কে দিনরাত্রি(১৯৯০),সাদা ঘোড়ার স্রোত(১৯৯৮),প্রাকৃত ঈশ্বর(২০০০),আবহাওয়াবিদগণ জানেন(২০১২) উল্লেখযোগ্য। হয়তো ।আমরা সকলেই অপরাধী(২০০৮),ইলিশ গাড়ি ও অন্যান্য গল্প(১৯৯৯)তাঁর অন্যতম ছোট গল্প। উপন্যাস হিসেবে তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি হচ্ছে শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনী (২০০৭) এবং রমিতাজীবন প্রথম সভা (২০১২)। তিনি একাধারে প্রবন্ধকারও ছিলেন। তাঁর লিখিত প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে কবিতা শিল্পের জটিলতা (২০০৭), নজরুল সাহিত্যে পুরাণ প্রসঙ্গে(২০০৯),জীবনানন্দ দাস: মিথ ও সমকাল ।‘কারুজ’ তাঁর বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা।

তিনি ২০০১৪ সালে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ।

বিভাগের নতুন দায়িত্বে সম্পর্কে তাঁর অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ১২ আগস্ট দায়িত্ব নিয়েছি এবং বিভাগীয় কার্যক্রমও চালাচ্ছি।আমি আশা করি প্রশাসনিক ভবনের সকলেই আমাকে সহযোগিতা করবে।সাথে সাথে আমান সহপাঠিরাও সহযোগিতা করবে বলে আশা পোষণ করি।তিনি বলেন,আমার দায়িত্ব নেওয়ার পরও আমার বিভাগের সকলেই খুশি হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন,নতুন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বিভাগের সেশনজট নিরসন,সময়মত ফলাফল প্রকাশ করা সহ বিভাগের অন্যান্য সমস্যা দূর করতে ইতোমধ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন থেকে বিভাগের সকল কার্যক্রম তৈরিকরা একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য যে,এর আগে বিভাগটির দায়িত্বে ছিলেন কলা অনুষদের ডিন এবং বিভাগটির অধ্যাপক ড. নাজমুল হক।বর্তমান বাংলা বিভাগে ৭ টি ব্যাচ রয়েছে।২০০৮-০৯ সালের একটি ব্যাচের এমএ কোর্স চলছে। আর ২০০৯-১০ সালের ২য় ব্যাচটির বিএ অনার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর ।






মন্তব্য চালু নেই