মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে শিক্ষাবৃত্তিতে টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) দিনাজপুর বোর্ড কর্তৃক ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট(এইচএসসি)পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুসারে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে তালিকাভুক্ত মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির অর্থের যে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তা অনুসরণ না করে আগের নিয়মেই অর্থ প্রদানের চেক দেওয়া হচ্ছে বলে বৃত্তিপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে। তবে অর্থ ও হিসাব দপ্তর বলেছে তাদের নিকট নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়নি,তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৮.০০১.০৫-৪০২ তারিখ: ১১/০৫/২০১৫ এর নীতিমালা,স্মারক নং-৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৮.০০১.০৫-১১২ তারিখ: ০৪/০২/২০১৬ এবং মহাপরিচালক,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,বাংলাদেশ ঢাকা এর স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১১৭.৩১.০০৬.১২-২৪৮(১১) তারিখ: ১২/০২/২০১৬ অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড,দিনাজপুরের ২০১৫ বোর্ডকর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, বৃত্তির মেয়াদ ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে কোর্সের (৩-৫ বছর) মেয়াদকালীন প্রযোজ্য হবে।

এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোধাবৃত্তি (ট্যালেন্টফুল) অনুসারে একজন শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৮২৫ টাকা এবং এককালীন অনুদান(বাৎসরিক)সহ মোট (৮২৫*১২+১৮০০) ১১ হাজার ৭শত টাকা পাবেন এবং সাধারণ বৃত্তিধারী শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৩৭৫ টাকা এবং এককালীন ৭৫০ টাকা(বাৎসরিক)সহ মোট টাকা পাবেন (৩৭৫*১২+৭৫০) ৫ হাজার ২৫০ টাকা ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেরোবি প্রশাসন উপর্যুক্ত নির্দেশ না মেনেই পূর্বের নিয়মেই টাকার চেক প্রদান করছে। এতে সাধারণ বৃত্তিধারী শিক্ষার্থীরা বর্তমানের চেয়ে ১ হাজার ৭৫০ এবং মেধাবৃত্তি ধারী শিক্ষার্থীদের বর্তমানের চেয়ে ৩ হাজার ৯ শত টাকা কম পাচ্ছে। পূর্বের নিয়ম অনুসরণ করে সাধারণ বৃত্তিধারীদের ৩ হাজার ৫ শত এবং মেধাবৃত্তিধারীদের ৫ হাজার ২৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। যা স্পষ্ট সরকারী নীতিমালা ও বোর্ডের নির্দেশের পরিপন্থী।

বর্তমান সাধারণ বৃত্তিধারী শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৫ শত টাকা এবং মেধাবৃত্তিধারী শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হচ্ছে ৭ হাজার ৮শত টাকা।

একজন বৃত্তিধারী শিক্ষার্থী এই অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো: আনোয়ারুল হক এ ব্যাপারে ঐ শিক্ষার্থীকে ২০১৭ সালে দেখা করতে বলেন।

এ বিষয়ে তথ্য নিতে গেলেও একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় তথ্য নিতে ঘুরতে হয়েছে অনেক দপ্তর। প্রথমে শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা নিতে গত বৃহস্পতিবার একাডেমিক শাখার সহকারি রেজিস্ট্রার জাহেদুল ইসলামের নিকট গেলে তথ্য না দিয়ে বিভিন্ন ধরণের উচ্চবাক্য ব্যবহার করে বলেন, ‘আমি তোমাকে তথ্য দিতে বাধ্য নই।’ তালিকা বের করে সামনে নিয়েও পাশের একজন বলেন, ডাউনলোড দিয়ে নিতে।

অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারি পরিচালক আশরাফুল আলমের নিকট এ সংক্রান্ত তথ্যসহ তালিকা চাইতে গেলে তিনি বলেন, তার কাছে এ সম্পর্কিত তথ্য নাই। আরেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নিয়ে দিবেন। পরদিন তথ্য নিতে গেলে বলেন, এ সকল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার উপাচার্যের কাছে রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য গেলে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো: আনোয়ারুল হকের কথা বলেন। সেখানে গেলে এই কর্মকর্তা পুনরায় আশরাফুল আলমের নিকট যেতে বলেন। তিনি বলেন, আপনি জেলা ট্রেজারার অফিসে কাছে এ সব তথ্য নেন।

গত মঙ্গলবার এই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নিকট শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের নতুন নির্দেশনা আসে নি। এইবার যেহেতু আসে নি তাই আগামী বছর এলে শিক্ষার্থীদের বর্তমানে প্রাপ্ত টাকা আলাদা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এ দিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো: নজরুল ইসলাম জানান, ‘একাডেমিক শাখা-২ থেকে দুই/তিন বছর যাবত আমাদের কাছে কোনো বোর্ড শিক্ষাবৃত্তির তালিকা পাঠানো হয় না।’ অথচ এই শাখার সহকারি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রয়েছেন মো: জাহেদুল ইসলাম। একাডেমিক শাখা-১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, প্রতিটি বিভাগে বৃত্তির তালিকা পাঠানোর আবশ্যকীয়তা রয়েছে। আমার অধীনে বিভাগগুলোতে আমি তালিকা পাঠিয়েছি।

এ অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর গত বৃহস্পতিবার বলেন, আমি ঢাকায় আছি। (বিষয়টি) না দেখে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। এ ব্যাপারে আমার কোনো কমেন্ট (বক্তব্য) নাই।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে বেরোবি’র ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদটি শুন্য হয়ে যাওয়ার পর উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন-নবী সে পদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে নিজেই আঁকড়ে ধরে আছেন। অর্থ সংক্রান্ত সব কিছু তিনি দেখভাল করেন






মন্তব্য চালু নেই