মেইন ম্যেনু

বেরোবির কেন্দ্রীয় মসজিদে এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি ইমাম-মুয়াজ্জিন

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি: নির্মাণ কাজ স¤পন্নের আড়াই বছর পেড়িয়ে গেলেও এখনো উদ্বোধন করা হয়নি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ। গত ৩১ মার্চের মধ্যে পদ দুটি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা করেন নি উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন নবী। নিয়োগ ভাইভা বোর্ড এবং সিন্ডিকেট সভা হওয়ার পরও ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রায় এক বছর ধরে দুটি মাইক অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে মাইকে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়াক্তেরই আজান হচ্ছেনা। এমনকী সপ্তাহে দু’দিন মসজিদ বন্ধ থাকে বলেও জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ব্যক্তিকে দিয়ে ঠেকা সাড়ার কাজ চললেও মসজিদ বন্ধ থাকে বেশিরভাগ সময়।

এছাড়াও অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া জুমার নামাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ দুটি হলের শিক্ষার্থীরা। এখনও খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। এমনকী গত ৮ এপ্রিল (শুক্রবার) বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবি জানায়। তবে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগে ভেরিফিকেশন (তদন্ত প্রক্রিয়া) শেষ হলে যতদ্রুত সম্ভব মসজিদ উদ্বোধনের আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ২২ টি প্রকল্পের জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ২০০৮ সালের ১৯ আগষ্ট ৯৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাশ হয়। যেখানে ৫০০ স্কয়ার মিটার জায়গাবিশিষ্ট মসজিদ স্থাপনের জন্য তিন তলা ভবনের নিচ তলার জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারন করা হয়। মসজিদটির নির্মান কাজ শেষ হওয়ার তারিখ ছিলো ২০১২-১৩ অর্থ বছরের ১৩ জুন। নির্মাণ কাজের
কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ২০১১ সালের ২৩ মার্চ। যার সময় বেঁধে দেওয়া হয় দুই বছর আড়াই মাস।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় ৬ মাস পরও উদ্বোধন না হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর এম হাফিজুর রহমান সেলিমসহ বেশ কিছু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। বর্তমান উপাচার্যের অনুমতিক্রমে ২০১৪ সালে মাহে রমজান মাসে খতমে তারাবীর মাধ্যমে অনানুষ্ঠিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই কেন্দ্রীয় মসজিদ। সেই সময় উপাচার্য জরুরি কাজে ঢাকা থেকে ফিরে এসে উদ্বোধন করার কথা ছিলো বলে জানা যায়। কিন্তু ঢাকা থেকে ফিরে এসে সেটি উদ্বোধন করেন নি উপাচার্য ।

এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতায় মসজিদে খতমে তারাবী বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুটি হল উদ্বোধন হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মসজিদে জুমার নামাজ পড়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের শেষের দিকে অনানুষ্ঠিকভাবে কিছু আগ্রহী মুসল্লিদের আপ্রাণ চেষ্টায় জুমার নামাজ পড়া শুরু হয়। দু’একটি জুমা পড়তে না পড়তেই মসজিদ কমিটির ‘অনুমতি নেওয়া হয়নি’ বাহানা দিয়ে জুমার নামাজে কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি মসজিদে তালা না খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ আসে । পরে খোলা মাঠেই কয়েক জুমার নামাজ আদায় করে হলের শিক্ষার্থীরা। চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এখন পর্যন্ত জুমার নামাজের অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত বছরের মে মাসে এক অতর্কিত ঝড়ে ভেঙে পড়ে মসজিদের মাইক স্ট্যান্ড। অকেজো হয়ে পড়ে দুটি মাইক যা আজো ভালো করা হয়নি। এমতাবস্থায় প্রায় এক বছর ধরে মসজিদের মাইকে কোনো আজান হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন নবী ২০১৩ সালে ৬ মে যোগদানের প্রায় দুই বছর পর গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল উপাচার্যকে সভাপতি ও সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদ উল আলম রনি কে সেক্রেটারি করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় এক বছর পেড়িয়ে গেলেও মসজিদটি উদ্বোধন করতে পারেনি গঠিত এই কেন্দ্রীয় কমিটি।

মসজিদটির অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমাধানের লক্ষ্যে গত বছরের শেষের দিকে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হয়। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য গঠিত নিয়োগ বোর্ডে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২২ মার্চ । এরপর নিয়োগ প্রদানের উদ্দেশ্যে সেদিনই মনোনীতদের ভেরিফিকেশ নের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে তা অনুমোদন প্রদানের কথা। তবে এখন পর্যন্ত কেনো এ দুটি পদে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়নি তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীরকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমাদের কাছে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের আরো কয়েকজনের রিপোর্ট (পুলিশি প্রতিবেদন) আসতে বাকি আছে। সেগুলো আসলেই দ্রুত পদদুটি পূরণ করে মসজিদ উদ্ধোধন করা হবে।

এদিকে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ঠিকাদার মসজিদ কমিটির হাতে মসজিদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পর ঐ দিনই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক¤িপউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব এটেনডেন্ট মোঃ মুহিনুল ইসলামকে অস্থায়ীভাবে মসজিদের কাজের জন্য চাবি বুঝিয়ে দেন। পূর্বে সপ্তাহের ৭ দিনই ঠিকাদারের লোক হিসেবে রাকিবুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নামাজ পড়ালেও বর্তমানে দিনে ৩ ওয়াক্ত করে পাঁচদিন নামাজ চলে। বাকী দুই দিন মসজিদ বন্ধ থাকে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

এর আগে মসজিদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ স¤পূর্ন করতে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যতদ্রুত সম্ভব অবশিষ্ট কাজ স¤পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশ দিলেও মসজিদটির আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়নি। তবে শ্রীঘ্রই মসজিদটি সৌন্দর্যমন্ডিত করে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়ে তা উদ্বোধন করা হবে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই