মেইন ম্যেনু

বেরোবি উপাচার্যের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)’র উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবীর সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ২ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।

বিভিন্ন অনিয়ম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এ আদেশে তিন সদস্যবিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে। কমিটির সদস্য হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ড, মো: ফখরুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এর সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলামকে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা লিখিত অভিযোগ পত্র সূত্রে জানাগেছে, উপাচার্য অধ্যাপক নূর-উন-নবীর ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে। উপাচার্য গত তিন বছর এক মাসে ৪৯৫ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে এ অচলাবস্থা তৈরি করেছেন।

শিক্ষক সমিতির ১২ দফা অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে : বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী একজন উপ-উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে তার কোনো উদ্যোগ নেই। কোষাধ্যক্ষ পদ ২০১৩ সালের আগস্টে শূন্য হলেও সে পদ পূরণের উদ্যোগ নেই। এ ছাড়াও তিনটি অনুষদের ডিন, তিনটি বিভাগের প্রধান, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ একাই ১৭টি পদের দায়িত্ব পালন করছেন! উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতিতে এই ১৭ পদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউজিসির সুপারিশ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০০৯ সালে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

পরিচালক হিসেবে গত তিন বছরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো উদ্যোগ নেননি উপাচার্য। এ ইন্সটিটিউটের অধীন আটজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন কর্মচারী থাকলেও তাদের কোনো কাজ নেই! শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর গত বছর হামলা চালালেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থাই নেননি অধ্যাপক নূর-উন-নবী। আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগের একটি আবেদন বাতিল করলেও সেই প্রার্থীকে নিয়ম অমান্য করে নিয়োগ দেওয়াসহ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বাঁচাতে উপাচার্য অধ্যাপক নূর-উন-নবী বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন

এ অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তিনি ঢাকাতেই থাকেন। মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়েই এ অনুপস্থিতির দিন হিসাব করা হয়েছে। তার অনুপস্থিতি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমই স্থবির করে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবীর মোবাইলে কয়েক দফা কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।






মন্তব্য চালু নেই