মেইন ম্যেনু

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বেসরকারিভাবেও লোক যাবে মালয়েশিয়ায়

বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘জিটুজি প্লাস’ ‍চুক্তি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার নির্ধারিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। সচিব জানান, আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়।

এই প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরে আর বাধা থাকলো না। এ চুক্তি সম্পন্ন হলে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কনস্ট্রাকশন, ফ্যাক্টরি ও সেবা খাতসহ সব খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠাতে পারবে।

এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিপিং করপোরেশন আইন-২০১৬ এর খসড়াটি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মূখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়ছে।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা স্মারকের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেটি ফেরত নেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এই খসড়া ফেরত নেয়া হয় বলে জানানো হয়েছিল।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর প্রায় তিন বছর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জিটুজি (সরকার হতে সরকার) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অভিবাসন ব্যয়ে পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। এ ঘোষণায় সারাদেশে ১৪ লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যেতে নিবন্ধন করেন। কিন্তু নানা কারণে সফলতার মুখ দেখেনি জিটুজি। গত তিন বছরে এ পদ্ধতিতে বনায়ন খাতে মাত্র ১০ হাজার কর্মী কাজ নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পান। আরও ২০ হাজার কর্মী গিয়েছেন পেশাজীবী ভিসায়।

মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করতে গত জুনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (বিটুটি পদ্ধতি) কর্মী পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। মালয়েশিয়া তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয়। কর্মীদের সমস্ত ব্যয় বহন করবে মালয়েশিয়ার জনশক্তি আমদানিকারকরা। গত আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে দুই দফা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে ঘোষিত ১৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভায় ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতার খসড়াটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশে এর অনুমোদন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি ঝুলে ছিল।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই