মেইন ম্যেনু

বোলিং করে না, ব্যাটিং করে বিশ্বরেকর্ড করেছেন মোহাম্মদ আমির

বোলিংয়ের সময়টি কেবল হতাশায় মাথা নাড়তে নাড়তে পার করেছেন। ব্যাটিংয়ে যখন নামলেন, ২০০ রানেরও বেশি ব্যবধানের হার চোখ রাঙাচ্ছিল পাকিস্তানকে। সে দুঃখ ভুলতেই বোধ হয় এমন খ্যাপাটে ব্যাটিং করলেন মোহাম্মদ আমির। সেই ব্যাটিংয়ে দিন শেষে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড দেখল ট্রেন্ট ব্রিজ। ওয়ানডেতে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড এখন এই বাঁহাতি পেসারের দখলে।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে কাল রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে ট্রেন্ট ব্রিজে। সে ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ওয়ানডে ক্রিকেটের কত কত রেকর্ড। প্রথমে অ্যালেক্স হেলস ভাঙলেন ২৩ বছর পুরোনো ইংলিশ রেকর্ড। ব্যক্তিগত ইনিংসের সে রেকর্ডও পরে গৌণ হয়ে গেল তাঁর দলের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙা ৪৪৪ রানের কাছে। ওয়াহাব রিয়াজ তো ৩ রানের জন্য বেঁচে গেলেন খরুচে বোলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ডের হাত থেকে। সে জন্যই বোধ হয় দিন শেষে আমিরের ইচ্ছে হলো আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ার।

১১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে কাল যখন আমির নামলেন, দলের রান ১৯৯। আমির নেমে কিছুক্ষণ ঠুকঠুক করছিলেন, একটু পরেই বুঝতে পারলেন ম্যাচের এমন পরিস্থিতিতে এসবে কিছু যায়–আসে না। ষষ্ঠ বলে চার মেরে শুরু করলেন, ২৮তম বলে ক্রিস ওকসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন। এর মাঝেই আরও ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা মারা হয়ে গেছে তাঁর।

এর মধ্যে আদিল রশিদকে টানা তিন বলে ছক্কা মেরে ২২ বলেই ৫০ ছুঁয়েছেন। টানা তিন ছক্কার দ্বিতীয়টিতেই বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন আমির। ২০০৩ সালে কেপটাউনে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই পাগুলে এক ইনিংসে ১৬ বলে ৪৩ রান করেছিলেন শোয়েব আখতার। কাল সে রেকর্ড ভেঙে ৫৮ করেছেন আমির। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি।

তবে এই রেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত আরেকটি অর্জন হয়েই থাকবে। সান্ত্বনা পেতে পারেন এই ভেবে, নয় ও দশে নেমে সর্বোচ্চ রানের দুটো ইনিংসও বৃথা গিয়েছিল। নয়ে নেমে আন্দ্রে রাসেল (৯২*) ও দশে নেমে রবি রামপালও (৮৬*) বিশ্ব রেকর্ডের ইনিংস দুটি খেলেছিলেন পরাজিত দলের হয়ে।

১১ নম্বরে নেমে ৪০ পেরোনো ইনিংসই আছে আর একটি। ১২ বছর আগে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাখায়া এনটিনি। বাংলাদেশের পক্ষে ১১ নম্বরে নেমে অপরাজিত ২২ করেছিলেন তাপস বৈশ্য। ২০০৫ সালের ওই ইনিংস এখনো দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ হয়ে আছে।-প্রথম আলো






মন্তব্য চালু নেই