মেইন ম্যেনু

বৌদ্ধ ভিক্ষুর খাদ্য-পানীয় ছাড়া টানা নয় দিনের ধ্যান

জাপানে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু সহ্যসীমার কঠিন পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রমাণ করেছেন তার সহ্যসীমার বিশালতা। পাশাপাশি তার ধর্মীয় আচারের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস আর অসীম একাগ্রতা। ধর্মীয় প্রথা অনুসারে তিনি টানা নয়দিন খাবার গ্রহণ, পানি পান এবং ঘুমানো থেকে বিরত রেখেছেন নিজেকে। তার এই ধর্মীয় আচারের শেষ দিন ছিল আজ শুক্রবার।

জাপানের বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ ব্রিটিশ দৈনিক বিবিসিতে টানা নয়দিন অভুক্ত থাকা কোজেন কামাহরি নামের ওই বৌদ্ধ সাধককে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে ইতোমধ্যে। বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে ওই বিশেষ ধর্মীয় প্রথার নাম ‘দৈরি’ যার অর্থ ‘আপন ঘরে প্রবেশ’।

দ্য মেইনিচি নামের একটি দৈনিকে বলা হয়, তেন্দাই অনুসারীদের একজন সন্ন্যাসী কোজেন গত নয়দিন আগে বৌদ্ধ দেবতা আকালার উদ্দেশ্যে প্রায় এক লাখবার মন্ত্র জপ করেছেন। এই নয়দিনের মধ্যে তিনি একবারের জন্যও খাবার বা পানি স্পর্শ করেননি। শুধু তা-ই নয় তিনি একটিবারের জন্যও শুয়ে পড়েননি বা ঘুমাননি। এক বসাতে এক লাখবার দেবতা আকালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মন্ত্র পাঠ করেন।

সাধক কোজেন জানান, দেবতা আকালা হলেন এক মহা পরাক্রমশালী যোদ্ধা যিনি সবাইকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করেন আগুনের তরবারি দ্বারা। দেবতাকে সন্তুষ্ট করা মানেই হলো কারো আর জাগতিক ভোগ্যপণ্যের দরকার হয় না। তিনিই বাঁচিয়ে রাখেন।

প্রায় ৬০০ জন লোক এই ৪১ বছর বয়সী সাধককে তার ওই ধ্যান থেকে ফিরে এলে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য উন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জাপানের হাইয়ি নামের ওই পবিত্র পর্বতে তার ধ্যানস্থলের কাছে। সাদা আলখেল্লা পরিহিত অবস্থায় তিনি বেরিয়ে এলে উপস্থিত সবাই তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং সাবধানতার সঙ্গে নিয়ে আসেন।

গত আট বছরের মধ্যে কোজেন কামাহরিই প্রথম কোনো ভিক্ষু যিনি এই কঠিন ধ্যান ভালোভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ১৯৪৫ সাল থেকে বৌদ্ধ ধর্মের সাধকরা এই সাধনা করে আসছেন। সেই হিসেবে কোজেন ১৩তম।






মন্তব্য চালু নেই