মেইন ম্যেনু

ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারিনি

‘দেশে ৫৬টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হলেও এখনো ব্যাংকিং সেবা আমরা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারিনি’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জনতা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণায়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির উন্নতির সাথে আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বাড়াতে হবে। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সবাইকে সতর্কতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।’

জনতা ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত মূলধন ঘাটতিতে পড়লেও জনতা ব্যাংককে সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নিতে হয়নি। সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ১৩টির মধ্যে ১২টি শর্তই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারো ভালো রেকর্ড অর্জন করেছে ব্যাংকটি।’

বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাংকগুলোকে কাজ করে যেতে হবে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ ও দুর্নীতির মাত্রা কমাতে হবে।’ এটিএম সেবা শুধু শহর পর্যায়ে নয়, গ্রামীণ পর্যায়েও পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. এম আসলাম আলম বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নে এসএমই ঋণ বিতরণের মাত্রা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের শাখাগুলোকে বিষেশভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এছাড়া ব্যাংকিং খাতের মামলা মোকদ্দমাগুলো নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া, ব্যাংকের উচ্চ সুদহার কমানোর কথা বলেন তিনি। গ্রাহকদের জামানত আরো সহজ প্রক্রিয়ায় নেয়া হলে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকরা উপকৃত হবেন বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, ‘গত বছর দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে জনতা ব্যাংক সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে। বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণের মাত্রা এখন প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার।’

সম্মেলনে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফা এক হাজার ১৬২ কোটি টাকা অর্জন করে। ২০১৪ সালের তুলনায় গত বছরে জনতা ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে ৯৪ কোটি টাকা। এ সাফল্যের পেছনে ব্যাংকটি ১৩টি সূচকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়। ২০১৪ সালে ব্যাংকটির অনলাইন শাখার সংখ্যা ছিল ১৭৪টি। ২০১৫ সালে আরো ৩২৯টি শাখায় অনলাইন সুবিধা চালু করা হয়। বর্তমানে ব্যাংকের ৯০৮টির মধ্যে ৫০৩টি শাখায় অনলাইন সুবিধা পাচ্ছে গ্রাহকরা।






মন্তব্য চালু নেই