মেইন ম্যেনু

ব্যাঙের বিয়ের পর দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় বৃষ্টির আশায় ব্যাপক আয়োজনে ধুমধাম করে গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ব্যাঙের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলেই অনাবৃষ্টি কেটে যাবে । ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে বিরল উপজেলার ভারাডাঙ্গী বেতুড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মানুষ। বিয়েতে গ্রামবাসীসহ প্রায় ৫০০ আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। রং মেখে নেচে গেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ব্যাঙের বিয়ের দুই সপ্তাহ পর অবিরাম টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে শাখা যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর পানি। তলিয়ে গেছে খাল-বিল, ডোবা-নালাসহ নিচু এলাকা। অবিরাম এ বৃষ্টি চলতে থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছে এই অঞ্চলের মানুষ।

টানা বৃষ্টিতে কোনো কাজকর্ম করতে না পেরে অচল হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারগুলো। দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ।

অবিরাম টানা বর্ষণে দিনাজপুর শহরের ৮, ৯, ১০ নম্বর উপশহরের রাস্তায় রাস্তায় পানি, এ ছাড়া বাঙ্গীবেচা ঘাট এলাকা, সাধুর ঘাট এলাকা, দপ্তরীপাড়া, হঠাৎপাড়া, ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর, সুজাপুর, খয়েরবাড়ী ও বেতদিঘি, বিরল উপজেলাসহ আরো কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

আজ রোববার দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, লঘু নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টিপাত সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপ সহকারী আবদুর রাজ্জাক জানান, জেলার ছোট-বড় ১৭টি নদ-নদীর পানি বুধবার থেকে বাড়তে শুরু করেছে। উজান থেকে পানি নেমে আসার কারণে এবং বৃষ্টিপাতের পানি মাঠ থেকে নদীতে নেমে আসায় নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। দিনাজপুরের পুনর্ভবা নদী, আত্রাই নদী, চিরিরবন্দরের ইছামতী নদী, ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদী, পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আর বৃষ্টিপাত না হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে ব্যাঙের বিয়ের আয়োজকরা জানান, শ্রাবণ মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বৃষ্টি নেই। জমিতে চাষ দেওয়া যাচ্ছে না। যে জমিগুলোতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সে জমিগুলো পানির অভাবে চৌচির হয়ে গেছে। এ কারণে যাতে বৃষ্টি আসে সে জন্য ব্যাঙের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বিরলের তেলীয়া বর্মণ (৮২) বলেন, ‘অতীতেও এভাবে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারও সে আশা থেকেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ভগবান জলও দিয়েছে।’

বিরল ভান্ডারা ইউপির ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহেশ চন্দ্র রায় (২৮) বলেন, ‘যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের এমনটি বিশ্বাস যে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার কারণে অনাবৃষ্টি কেটে গেছে । এটা আমার বা শিক্ষিত সমাজের কাছে বিশ্বাস্য নয় । গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের অনুরোধে এলাকার যুবকেরা মূলত এমন আয়োজন করেছিল। এটা একটা কুসংস্কার ছাড়া কিছু না ।’






মন্তব্য চালু নেই