মেইন ম্যেনু

ব্যাঙ্গালুরুতে টাইগাররা যে হোটেলে

ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে হোটেলটাতে আছে তার নাম ‘দি রিজ কার্লটন’। একটু অপরিচিত মনে হলেও এটি একটি চেইন হোটেল। ভারত ছাড়াও পৃথিবীর আরও ২৮টি দেশে মোট ৯০টি ফাইভস্টার মানের হোটেল আছে তাদের। এর মূল মালিকানা আমেরিকার ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির।

আগের রাতে আকরাম ভাইকে (আকরাম খান) ফোন করে টাইগারদের ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম। কারণ দল নিয়ে তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে পৌছান আমার তিন ঘন্টা আগে, অর্থাৎ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায়।

মিস্টার খানও কিন্তু হোটেলের নামটি পুরোপুরি বলতে পারেননি। ফোনের ওপাশ থেকে তিনি আমাকে বললেন ‘রিজ হোটেল’। আমি শুনলাম রিচ হোটেল ! আর যখন লোকেশনটা জানতে চাইলাম তখন বললেন, তাতো বলতে পারছি না। রেস্ট নিচ্ছি শুনিয়ে তিনিই পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ইন্টারনেট থেকে নিতে পারছো না!

আসলে আকরাম ভাইয়ের পরামর্শেই এই রিজ কার্লটন হোটেলটির খোঁজ খবর নেওয়া।

যা হোক, সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো আজ বোধহয় ছুটির দিন। ভেবেও নিলাম তাই, কারণ মোবাইল ফোনে যে শো করছিলো ফ্রাইডে। কিন্তু যতোই টিম হোটেলের কাছাকাছি যাচ্ছিলাম আস্তে আস্তে ভুল ভাঙ্গতে লাগলো। রাস্তায় দেখা পেলাম শত শত সবুজ-সাদা স্কুল ড্রেস পড়া মেয়েদের দল। বুঝতে আর বাকি রইলো না এখানটার আশপাশে কোথাও মেয়েদের স্কুল রয়েছে। সত্যি সত্যি তাই, দি রিজ কার্লটনের বিপরীত দিকেই বিশপ কটন গার্লস স্কুল। অনেক বড় জায়গাজুড়ে ক্যাম্পাস। ছুটি হওয়ার পর মেয়েদের লাইন যেনো শেষই হচ্ছে না। দেখতে দেখতে একটা পার্থক্যও আবিস্কার করলাম। বাংলাদেশে যেমন ক্লাস সিক্সে উঠার পর আর মেয়েদের শর্টস্কার্ট পড়ার নিয়ম নেই, এখানে এমনটা নয়। ক্লাস ওয়ান বা টু-এর পিচ্চির পরনে যেমন শর্টস্কার্ট-টপস, ক্লাস নাইন-টেনের ছাত্রীদেরও একই ইউনিফরম।

মেয়েদের লাইন দেখতে দেখতেই পৌঁছালাম দি রিজ কার্লটন হোটেলের সামনে। অটোর ভাড়া মিটিয়ে ভেতরের দিকে রওনা হতেই বাধা আসলো। হোটেলের চিফ সিকিউরিটি অফিসার মুরালিধরন এসে জানিয়ে দিলেন, এখানে মিডিয়ার প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। বুকে ‘মুরালিধরন’ লেখা দেখে তাকে প্রশ্ন করে বসলাম, তুমি কি মুত্তিয়া মুরালিধরন নামের কাউকে চেনো? সে হেসে উত্তর দিলো, অবশ্যই। সঙ্গে অবশ্য জানিয়ে দিলো যে, সে নিজে কখনোই ক্রিকেট খেলেনি। তবে অনেক ক্রিকেটারকে চেনে। তাদের সঙ্গে ছবিও রয়েছে। তার তালিকাটাও বেশ লম্বা: ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, লাসিথ মালিঙ্গা এবং রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে ছবি উঠানো হয়েছে এই হোটেলের লবিতেই।

কিন্তু গল্প জমিয়েও লাভ হলো না। সেতো ঢুকতে দেবেই না। কিছু করারও নেই। বুঝতে পারলাম, হয়তো বিশ্বকাপ বলেই আইসিসি এতটা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যা হোক এই পরিস্থিতিতেই টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের ইন্টারভিউ’র জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলাম। তারা দুজনও জানেন এই হোটেলে ক্যামেরা চালানোর কড়াকড়ির কথা। শেষমেষ দুজনেরই ইন্টারভিউ করতে হলো দি রিজ কার্লটনের মূল ফটকের একেবারে বাইরে। ততক্ষনে রেসিডেন্সি রোডটি পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইন্টারভিউ নিতে নিতেই চোখ গেলো আবারও গেটের ভেতরে। রিজ কার্লটন হোটলের আরেক সিকিউরিটি ‘ইয়েলো ডোভার’ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর) তার চোখে চোখ পড়তেই সেও তার ভাষায় হাই করে উঠলো।

ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার আগেই অফিস থেকে ডিএনই’র ফোন। কি আরিফ? বাংলাদেশ দলের কি আপডেট আছে কিছু?






মন্তব্য চালু নেই