মেইন ম্যেনু

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ঘুষ কেলেঙ্কারি ফাঁস

বাংলাদেশে বেনসন অ্যান্ড হেজেজ এবং গোল্ড লিফসহ আরো কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকারী বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি বা ব্যাট) বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে সিগারেট ব্যবসা ‘জাঁকজমক’ করতে ওই সব দেশের নেতা ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে থাকে কোম্পানিটি।

যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি ব্যাট। বিশ্বের অনেক দেশে তাদের তামাকজাত পণ্যের বাজার রয়েছে। ব্যাটের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কিছু অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পেয়েছে বিবিসি।

বিবিসির তদন্ত দল প্যানোরোমার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থ দিয়ে থাকে ব্যাট। এক ব্যক্তি ঘুষ দেওয়ার কয়েক শ গোপন নথিপত্র ফাঁস করার পর অনুসন্ধান শুরু করে বিবিসি। যুক্তরাজ্যের এই সম্প্রচার সংস্থার অনুসন্ধানে ফাঁস হওয়া নথিপত্রের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়েছে, ‘যেখানেই হোক, সত্যিটা হলো ব্যাট দুর্নীতি করে না এবং তা সহ্যও করে না।’

ব্যাটের হয়ে কেনিয়ায় ১৩ বছর কাজ করা পল হপকিন্স বিবিসিকে বলেছেন, ‘তিনি ঘুষ দেওয়া শুরু করেন তখন, যখন তাকে বলা হয় আফ্রিকায় ব্যবসা করতে এমন খরচ করতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাট মানুষকে ঘুষ দিচ্ছে এবং আমি তার ব্যবস্থা করছি। সত্যটা কি এই … তারা আইন ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে, না হয় তারা আইন ভাঙছে।’

পল হপকিন্সের শেয়ার করা ই-মেইল থেকে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) প্রচারাভিযানের একজন প্রাক্তন ও দুজন বর্তমান সদস্যকে ঘুষ দেয় ব্যাট। তামাকতাজ পণ্য সেবনে মৃত্যু হার কমিয়ে আনতে ১৮০টি দেশের সমর্থন ও সহায়তায় জাতিসংঘ এফসিটিসি প্রচারাভিযান চালায়।

এফসিটিসিতে অংশ নেওয়া বুরুন্ডির প্রতিনিধি গোডেফ্রোইড এবং কোমোরোচ দ্বীপপুঞ্জের প্রতিনিধি চাইবো বেডজাকে ২ হাজার ডলার করে ঘুষ দেয় ব্যাট। রুয়ান্ডার প্রাক্তন এক প্রতিনিধিকে ২০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তবে এফসিটিসির তিন সদস্যই ঘুষ গ্রহণে প্রথমে অস্বীকৃতি জানান।

ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা ডা. ভেরা দ্যা কস্তা সিলভা বলেছেন, ‘ব্যাটের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত হওয়া উচিত এবং শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।’

এ ছাড়া ব্যাটের গোপন নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ধূমপানবিরোধী আইন কঠোর না করতে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে বা ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছে।

তামাকজাত পণ্যের ব্যবসা করলেও বহুজাতিক কোম্পানি জগতে ব্যাটের কিছু সুনাম আছে। সেটা অবশ কর্মীদের মোটা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার জন্য। বাংলাদেশে ব্যাটের তামাকজাত পণ্যের রমরমা ব্যবসা আছে। বলতে গেলে বাংলাদেশে এই বাজারে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বহু বছর ধরে একচেটিয়া ব্যবসা করছে।






মন্তব্য চালু নেই