মেইন ম্যেনু

ব্রেইন স্ট্রোকে সৌদি প্রবাসির মৃত্যু

সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীতে মোহাম্মদ আলমগীর (৩৮) নামের এক প্রবাসি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিজের কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে টানা চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামের ডাঃ রাজা মিয়ার বাড়ীর হাজী নুরুল আলমের মেঝ পুত্র।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসি আলমগীর সৌদি আরবে দীর্ঘ ১৩ বৎসর যাবৎ একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করত। গত ১ সেপ্টম্বর প্রতিদিনকার মতো নিজের কর্মস্থলে ছুটে যায় আলমগীর। হঠাৎ করে দোকানের ভেতর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ে গেলে তাকে দোকানের স্টাফরা সেখানকার একটি ¯পশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করে।

সেখানে টানা চারদিন ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল সে। গত ৫ সেপ্টম্বর রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে ভোররাতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আলমগীর।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এস.এস.সি পাশ করার পর পরই পরিবারের হাল ধরতে ভিসা নিয়ে ওমানে যান আলমগীর। সেখানে তেমন সুবিধা করতে না পেরে ফের দেশে চলে আসেন। পরে এক আতœীয়ের মাধ্যমে ভিসা নিয়ে চলে যান সৌদি আরব। সেখানে শুরু থেকেই কাপড়ের দোখানটিতে চাকুরি পান। চাকুরি পাওয়ার পর থেকেই সংসারে স্বচ্চলতা ফিরে আসে তার। ২০০৪ সালে দেশে ছুটিতে এসে নোয়াপাড়ার শেখ পাড়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার কন্যা শাহানাজ আকতারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন।

তাদের সংসার জীবন আলোকিত করে জন্ম নেয় দুই সন্তান আবদেল্লা আলম আয়াত (৬) ও আরফাতুল আলম (৩)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল সে। সর্বশেষ গত ফেব্র“য়ারি মাসে দেশে ছুটিতে এসে এক মাস পর মার্চেই সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দেন। ছয়মাস পর আবার ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, ছুটির ছয়মাস পূর্বেই কফিনের বক্সে বন্ধী হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে পরিবারের আদরের ছেলেটিকে।

এদিকে সৌদি প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যু সংবাদ দেশে আসার পর থেকেই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। যার উপার্জন দিয়ে ঘুরত সংসারের চাকা তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা নির্বাক হয়ে গেছেন। তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা এই মন্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা।

নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, বর্তমানে নিহত আলমগীরের লাশ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। সেখানকার কিছু আনুষ্টানিকতা শেষে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য নিহত আলমগীর রাউজান প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক স¤পাদক নেজাম উদ্দিন রানার চাচাত ভাই।






মন্তব্য চালু নেই