মেইন ম্যেনু

বড়াইগ্রামে সুনীল হত্যা: বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় খ্রীষ্টান ব্যবসায়ী সুনীল দানিয়েল গমেজ (৬০) কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার সাতদিন পরও ঘটনার কোন রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় প্রায় ৫ হাজার খ্রীষ্টান নারী-পুরুষ। পরে তারা অবিলম্বে খুনীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবীতে স্বরাষ্টমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি করেছে।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পাঠানো বিশেষ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহত সুনীল গমেজের বাসার অপর ভাড়াটিয়া বনপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন মণি (৩৫) কে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

বনপাড়া বাইপাস মোড়ে মাহসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনকালে বনপাড়া প্যারিস কাউন্সিলের সহ-সভাপতি বেনেডিক্ট গমেজের সভাপতিত্বে দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বক্তব্য রাখেন বনপাড়া ক্যাথলিক চার্চের ফাদার বিকাশ হিউবার্ট রিবেরু। সমাবেশে এ দাবীর প্রতি একাতœতা জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মিলন আই গমেজ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা, জেলা আদিবাসী সংগঠণের পক্ষে নরেশ চন্দ্র সাহা এবং বোর্ণি, মথুরাপুর, ভবানীপুর, গোপালপুর খ্রীষ্টান ধর্মপল্লীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে তারা সুনীল গমেজসহ সাম্প্রতিককালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সব সংখ্যালঘু ব্যাক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এ সময় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় নাটোর-পাবনা ও বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের উভয় পাশে হাজার হাজার বাস-ট্রাক আটকা পড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘুরা এদেশে শান্তিপুর্ণ বসবাসের পাশাপাশি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় যেভাবে সুনীল গমেজকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার সাতদিন পরও কোন ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় আমরা দারুণভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সুনীল হত্যার ঘটনায় জজ মিয়া নাটক না সাজিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত খুনী কারা তা বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়ে যত দিন খুনীদের বিচার না হবে তত দিন রাজপথ ছাড়া হবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন তারা।






মন্তব্য চালু নেই