মেইন ম্যেনু

ভবন ধসের পর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

শ্রীপুরের ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলের ৭তলা ভবনের উপরের অংশ থেকে ৩ তলা ধসে পড়ার পর সোমবার ভোরে কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করার প্রায় ৬ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে ভবনটির উপরের অংশ থেকে ৩ তলা পর্যন্ত নিচ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ধসে পড়ে। এসময় আশপাশের এলাকায় আগুনের স্ফুলিঙ্গ উঠতে দেখা যায়। আগে থেকেই কারখানার আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।

ভবনটি সম্পূর্ণ স্টিল বিল্ডিয়ের হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত সোয়া ১০টার দিকে ভবনটিকে ঝুঁটিপূর্ণ ঘোষণা করে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ীর নতুন বাজার এলাকার বেতঝুড়ি গ্রামে রোববার দুপুরে ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস্ লি. নামক এক পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্র ও কারখানার শ্রমিকরা জানায়, দুপুরে খাবারের বিরতির সময় ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানায় আগুনের সূত্রাপাত হয়। এসময় খাবারের বিরতি থাকায় প্রায় সব শ্রমিক ও কর্মকর্তারা কারখানা ভবনের বাইরে ছিলেন। এ কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করে। কারখানায় বিভিন্ন ধাপে সুতা থেকে ‘টি শার্ট’ তৈরি করা হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্টিলের কাঠামোর উপর নির্মিত বিশাল আকৃতির ৭তলার ওই কারখানা ভবনের তৃতীয় তলার গোডাউনে আগুনের সূত্রাপাত হয় এবং পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে কারখানার কর্মচারীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা কারখানার ৭ তলা ওই ভবনের ৫ম তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে ঢাকা, জয়দেবপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী, সাভার ডিইপিজেড এবং ময়মনসিংহের ভালুকাসহ ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১৮টি ইউনিটের প্রায় শতাধিক ফায়ার ফাইটার ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পরও রাত ১০টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় আগুন ভবনের উপরের তলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। স্টিলের ফ্রেমের ভবন হওয়ার কারণে উপরের তলাগুলোতে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না। সরবরাহ করা পানি গড়িয়ে নীচে পড়ে যাচ্ছে। কারখানা ভবনে পর্যাপ্ত দরজা জানালা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নেভাতে ভবনের ভিতরে ঠিকমতো পানি সরবরাহ করতে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

আগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে কলকারখানা পরিদর্শক, বিজিএমএ ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্যকে নিয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান পিএসসি ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলের ৭তলা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ প্রদান করেন। মহা-পরিচালকের ঘোষণিার পরপরই এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরই ঝুঁকির আশঙ্কায় দমকলের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হলেও প্রায় ঘণ্টা খানেক পর (১১.২২মিনিটে) দমকল বাহিনী আবারো আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এরপর ভোর রাত ৪টার দিকে ভবনটি উপরের অংশ থেকে ৩তলা পর্যন্ত নিচে ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ধসে পড়ে। ধসে পড়ার আগ পর্যন্ত ভবনটিতে আগুন জ্বলছিল।






মন্তব্য চালু নেই