মেইন ম্যেনু

ভবিষ্যৎবাণী, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এ বছরই

কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিরিয়া ও আফগানিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না খোদ মার্কিনীরাই। এদিকে, রাশিয়া ও ইরানের হুঁশিয়ারী এবং উত্তর কোরিয়ার পাল্টা জবাব দেয়ার মনোভাব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরমাণু অস্ত্র প্রীতি আর কার্যকরী পরীক্ষার লিপ্সা চিন্তার রেখা ফেলেছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ললাটেও। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমের গণমাধ্যমও নানা যোগ বিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছেন। লৌকিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি নানা অলৌকিক ধ্যান ধারণার সমীকরণও মেলানোর চেষ্টা চলছে!
এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছু বিখ্যাত ভবিষ্যৎ দ্রষ্টার বাণী। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রসঙ্গে প্রথমেই চলে আসে বাবা ভাঙ্গার বাণী। বুলগেরিয়ার এই ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাকে আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন নারী হিসেবেও বলা হয়। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করা এই নারী বাল্যকাল থেকেই ছিলেন অন্ধ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার ভবিষ্যৎ দেখার বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পায়। সেসময় অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যরা বেঁচে আছেন কিনা এমন প্রশ্ন নিয়ে তার কাছে আসতেন। এমনকি ১৯৪২ সালে বুলগেরীয় শাসক তৃতীয় বোরিস তার সাথে দেখা করার জন্য আসেন।
বাবা ভাঙ্গা ৩০৩৫ সাল পর্যন্ত নানা সময়ের বিশেষ ক্ষণের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের উপকূলে বিরাট বিপর্যয় হবে বলে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। আসলেই সেই বছর সুনামি হয়েছিল।
তিনি বলেছিলেন, ২০০০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে লৌহ পাখি হামলা চালাবে। সে সময় অর্থাৎ ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে বিমান দিয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। পশ্চিমের অনেকের মতে বুলগেরিয় এই নারী এযাবৎ যা ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন তার অন্তত ৮৫ ভাগই মিলে গেছে।

২০১৬ সাল সম্পর্কে তিনি যা বলেছিলেন তা অবশ্য সত্যে পরিণত হয়নি। তিনি বলেছিলেন, সেই বছরে মুসলমানরা ইউরোপ দখল করে নেবে। কয়েক বছর ধরে ইউরোপে যুদ্ধ চলবে। লোকজন প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র চলে যাবেন। ফলে পুরো মহাদেশটি প্রায় খালি হয়ে যাবে। তবে আইএস’এর উত্থান, ইউরোপীয় জোটে ভাঙ্গন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোর সত্যতা প্রমাণিত।
বাবা ভাঙ্গা বলেছিলেন ২০১৮ সালে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে। যার সত্যতা কিছুটা হলেও এখনই পাওয়া যায়। এমন নানা বিষয়ে তিনি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন যা শুনলে অবাক হয়ে যেতে হয়। সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কেও বাবা ভাঙ্গা ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিরিয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া নিক্ষেপ করা হবে। যে ঘটনার পর যুদ্ধে মেতে উঠবে পুরো বিশ্ব।

১৯৯৬ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি হঠাৎ বলে ওঠেন, “ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে রাসায়নিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে মুসলিম সম্প্রদায়।” পশ্চিমা গণমাধ্যম বলছে, মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে রাসায়নিক যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়লেও বর্তমান শংকট কিন্তু একে ঘিরেই। বলা বাহুল্য সিরিয়ার নিরীহ নাগরিকদের উপর দেশটির বাশার সরকার যে অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তা কিন্তু মারাত্মক সেরিন গ্যাস। যা রাসায়নিক…
গ্যাস যুদ্ধের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। যার পরিণতি সম্পর্কেও কথা বলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, রাসায়নিক ও পারমাণবিক হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে গোটা বিশ্ব। প্রচুর মানুষের মৃত্যু ঘটবে। আর যারা বাঁচবে তাদেরও অধিকাংশ ত্বকের ক্যান্সারে এবং রাসায়নিক অস্ত্রের মারাত্মক কুপ্রভাবে প্রাণ হারাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কেও ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা। বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হবেন একজন আফ্রিকান-অ্যামেরিকান৷ বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সেটাও মিলে গেছে৷ এরপর যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন তিনি দেশটির ধ্বংসের কারণ হবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এমন সব সিদ্ধান্ত নেবেন যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই বলেছিলেন সে ব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত পশ্চিমা গণমাধ্যম।
এই প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, মানুষটির প্রতি অনেকের আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে কিন্তু সেটি যে ভুল ছিল অচিরেই তা পরিস্কার হয়ে উঠবে। এই বুলগেরিয় ভবিষ্যত দ্রষ্টা আরও বলেছিলেন, ২০১০ সালের দিক থেকে ৪টি দেশের প্রধানেরা কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা আততায়ীর হাতে খুন হবেন। যা থেকে পরিস্কার হয়ে উঠবে যে বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন।
পশ্চিমা গণমাধ্যম বলছে, সেই সুত্র মিলিয়ে দেখলে তার সত্যতা পাওয়া যায়। ২০১০ সালের গোড়ার দিকে হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবহু আততায়ী দ্বারা নিহত হন। একই বছর পোলিশ নেতা লিচ কাচনিস্কির মরদেহ খুঁজে পায় পুলিশ। পরের বছর বিদ্রোহীদের হাতে খুন হন লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তারও আগে ক্ষমতাচ্যূত ও নিহত হন ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন।

সেগুলোকে যদি বাদ দেয়া হয় তারপরও গেল বছরের শেষ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত রুশ কূটনীতিকদের মৃত্যুর সংখ্যা হিসেব করলে চিন্তা বেড়েই যায়। কেননা, গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে এবছর পর্যন্ত রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ৫ কূটনীতিক মারা গেছেন। যাদের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তারা হচ্ছেন, মস্কোর উচ্চপদস্থ কূটনীতিক পিটার পোশিকভ, তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কার্লোভ, গ্রীস দূতাবাসে কর্মরত আন্দ্রে মালানিন, ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার কাদাকিন এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও পৃথিবীর পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে নানা ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা। যার মধ্যে মঙ্গল অভিযানও রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে,

২০২৩ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে পরিবর্তন আসবে।
২০২৮ সালে জ্বালানির নতুন উৎসের সন্ধানে মানুষ শুক্রগ্রহে যাবে।
২০৩৩ সালে পৃথিবীর বরফের একটা বড় অংশ গলে যাবে।
২০৪৩ সালে ইউরোপে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তার রাজধানী হবে রোম। মুসলিম শাসনে বিশ্বের অর্থনীতিতেও গতি আসবে।
২০৪৬ সালে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে সক্ষম হবে মানুষ।
২০৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করবে যা পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে।

২১০০ সালে কৃত্রিম সূর্য বিশ্বের কিছু অংশের অন্ধকার দূর করে দেবে।
২১১১ সালে মানুষ জীবন্ত রোবট হয়ে যাবে। কিংবা মানুষের অঙ্গে যন্ত্রাংশ যুক্ত করা হবে।
২১৯৫ সালের দিকে মানুষ সাগরের নীচে শহর গড়ে তুলবে। পরের বছর এশিয়া ও ইউরোপের মানুষ একসঙ্গে মিলে নতুন এক জাতের মানুষ তৈরি হবে।

২২০১ সালে সূর্যের ক্ষমতা কমে যাবে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা হ্রাস পাবে।
২২৮৮ সাল নাগাদ মানুষ সময় অতিক্রম অর্থাৎ টাইম ট্রাভেল করতে সক্ষম হবে।
৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহে বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হবে।

সুত্র: দি মিরর



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই