মেইন ম্যেনু

ভাই-বোনের অসাধারণ একটি ভালবাসার গল্প…

সা’দের বয়স তখন ছয়, তাবিনের নয়। মায়ের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে পাঁচ’শ টাকা চুরি করেছে কেউ একজন। রাতে ভাইবোন দু’জনকে একসাথে হাঁটু গেঁড়ে বসিয়ে বেত হাতে মা…“বল, কে টাকা চুরি করেছিস?” দু’জনেই ভয়ে চুপ। “ওকে, কেউ স্বীকার না করলে দু’জনেরই হাড্ডি গুঁড়া করবো”….বলেই মা তেড়ে যাচ্ছিল তাবিনের দিকে। সা’দ চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, “আমি চুরি করেছি…আমি।”

রাতে সা’দ শুয়ে আছে…শান্ত, নীরব। তার সারা শরীরের বেত্রাঘাতের ক্ষতগুলোতে ওয়েনমেন্ট মাখছে তাবিন। পানি ঝরছে তাবিনের চোখ থেকে। বোনের চোখের পানি মুছতে উঠে বসতেই তাবিন সা’দকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে…“তুইতো চুরি করিস নি, তবে কেন মিথ্যে বলে..” কথা শেষ না করতেই তাবিনের মুখ চেপে ধরে সা’দ…“চুপ! মা শুনলে মিথ্যে বলার জন্য আবার মারবে যে!”

সা’দ এখন বড় হয়েছে। ম্যাট্রিক পাশ দিয়েছে। আজ তাবিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। অর্থনীতিতে চান্স পেয়েছে সে। খুশীর খবরটি প্রথমেই ছোটভাইকে জানাবে বলে ফোন করে সা’দকে। ও’ পাশ থেকে অনেকের কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সা’দ শান্ত….“দি, বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।”

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা হার্ট এটাকে মারা যাবার পর ভীষণ অর্থকষ্টে পড়ে তাদের সংসার। গ্রামে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় মা। সা’দ ভালো ড্রাইভিং পারে। পড়াশোনা ছেড়ে ট্যাক্সি চালাবে, তবুও ঢাকা ছাড়বে না। “তুই পড়াশুনা ছেড়ে দিবি! ট্যাক্সি চালাবি…এতই সহজ?”…অবাক হয়ে তাবিনের প্রশ্ন। বেরুবার পথে পেছন ফিরে সা’দের শান্ত জবাব, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে চান্স পাওয়া ততটা সহজ নয়, দি।”

ট্যাক্সি ড্রাইভার সা’দ কয়েকজন ড্রাইভারসহ ছোট্ট একটা বস্তি-মত মেসে থাকে। মাস শেষে উপার্জনের বড় অংশটা তাবিনের হলের ঠিকানায় মানি অর্ডার করে, অবশিষ্টাংশ মায়ের জন্য গ্রামে। তাবিনের সাথে দেখা করে না, পাছে তাবিনকে ট্যাক্সি ড্রাইভার ভাইয়ের পরিচয়ে বন্ধু-বান্ধবরা ভিন্ন চোখে দেখে! তাবিনও বহুবার সা’দের ঠিকানায় গিয়ে অনেক অপেক্ষা করেও তার দেখা পায়নি।

তাবিন এখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে। একদিন হলের গেইট থেকে দর্শনার্থির চিরকুট আসলো…পাড়ার পরিচিত একজন দেখা করতে চায়। গেইটে এসে তাবিন সা’দকে দেখেই জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল…“তুই আমার পাড়ার পরিচিত একজন??” সা’দ বরাবরের মত শান্ত…“দি, ট্যাক্সিটা আজ কিনেই ফেলেছি। চল, তুইই হবি আমার নিজের ট্যাক্সির প্রথম প্যাসেঞ্জার।”

সারাদিন ভাইবোন ঘুরে বেড়ানোর পর সা’দ তাবিনের হলের সামনে ট্যাক্সি থামালো…

– ভাড়া দিবি না? 🙂
– এই নে পাঁচ’শ টাকা 🙂
– এতো দেখি পুরোনো দিনের অচল টাকা 😞
– সে-ই টাকা, যেই টাকার জন্য তুই মাইর খেয়েছিলি!
– তুই চুরি করেছিলি??? 😮
– হুমম…তোর জন্মদিনে সারপ্রাইজ গিফ্ট দেবো বলে। মা’র ভয়ে আর দেয়া হয়নি…






মন্তব্য চালু নেই