মেইন ম্যেনু

ভাগনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামা খুন

বগুড়ায় স্কুল পড়ুয়া ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক ব্যক্তি। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শহরতলিতে একটি মন্দিরে আয়োজিত হরিবাসর অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে হামলা ও সনাতন মোদকের হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আজ দুপুরে লাশ নিয়ে শহরে মিছিল করেছে এলাকাবাসী। দুপুর ১২টার দিকে তারা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ নিয়ে মিছিল বের করে। পরে শহরের সাতমাথা হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন তাঁদের করণীয় সবকিছুই করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এলাকার লোকজন জানান, নিহত সনাতন মোদকের বাড়ি গণ্ডগ্রামে। তিন মাস আগে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন। মাত্র ২৭ দিন আগে বিয়ে করেছেন। গতকাল রাতে তিনি নববধূ, ভাগনি ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে বাড়ির কালীমন্দিরে হরিবাসর অনুষ্ঠানে যান। অনুষ্ঠানে প্রবেশপথের ফটকে কয়েকজন যুবক তাঁর ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। তখন সনাতন মোদক এর প্রতিবাদ করেন। তখন ওই যুবকদের সঙ্গে তাঁর কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবকেরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা রাজিব নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ সোপর্দ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রনি নামের আরও এক যুবককে আটক করে।

সনাতন মোদকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি বিরাজ করছে ক্ষোভও। স্বামীর মৃত্যুতে নববধূ সূচি রানি পাগলপ্রায়।

সনাতন মোদকের বোন সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, ‘উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আজ আমার ভাইকে প্রাণ দিতে হলো। আমি বিচার চাই।’

গণ্ডগ্রাম আদি কালীমন্দির হরিবাসর কমিটির সভাপতি অচিন্ত্য কুমার সরকার বলেন, ৫৯ বছর ধরে এখানে হরিবাসরের আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে পাঁচ হাজার ভক্তের সমাবেশ হয়েছিল। কিন্তু বখাটে সন্ত্রাসীদের কারণে গোটা আয়োজন পণ্ড হলো। এখন এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা।

অচিন্তকুমার অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন বখাটে অনুষ্ঠানে প্রবেশপথে সনাতন মোদকের ভাগনির ওড়না ধরে টানাটানি করছিল। এর প্রতিবাদ করেছিলেন সনাতন মোদক।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আজ সকালে সনাতনের বাবা সুরত চন্দ্র চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় আটক রাজিব ও রনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে রাজিব এজাহারভুক্ত আসামি। আর রনি সন্দেহভাজন। আগামীকাল তাঁদের আদালতের পাঠানো হবে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই