মেইন ম্যেনু

ভাঙ্গায় ৩ পরিবারের সদস্যদের নেশা খাইয়ে অচেতন করে সর্বস্ব লুট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের ৩ পরিবারের সদস্যদের নেশা খাইয়ে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে দূবর্ত্তরা। ঘটনার শিকার পরিবারগুলো বাড়ির টিউবওয়েলের পানি পান করে, পাশের রান্না ঘরে গিয়ে এবং অসুস্থদের দেখতে আসা আত্মীয়স্বজনরা সেবা শুশ্রুষা করতে গিয়ে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম আতংক। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে উক্ত গ্রামের সালাম মোল্যা (৬৫), স্ত্রী আকলিমা বেগম (৬০), রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। প্রতিবেশিরা সকালে অনেক বেলা হওয়া সত্বেও তারা ঘুম থেকে জেগে না উঠায় দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

দূবৃত্তরা তাদের ঘর থেকে মূল্যবান পোশাক, ২৫ হাজার টাকা, মোবাইল সেটসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। একই সময়ে উক্ত গ্রামের নুরু মাতুব্বরের বাড়িতে দূবৃত্তরা হানা দিয়ে একই কায়দায় পরিবারের সদস্যদের নেশাদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে নুরু মোল্যার স্ত্রী (৪৫), কন্যা রাবেয়া (২০), -এর সাথে থাকা স্বর্নের চেইন, কানের দুল, আংটি, মোবাইল সেট ঘরে থাকা নগদ লক্ষাধিক টাকাসহ অন্যান্য মালপত্র নিয়ে যায়।

পৃথক ঘটনায় একই গ্রামের দুবাই প্রবাসী সোনা শেখের বাড়িতে দূবৃত্তরা অভিনব কায়দায় পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে ফেলে। এ ঘটনায় সোনা শেখের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪০), কন্যা চৌকিঘাটা দাখিল মাদ্রাসা ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিফা আক্তার (১৫) কে অচেতন ও মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে উক্ত পরিবারের সদস্যদের দেখতে আসা আত্মীয় সোনা শেখের শাশুড়ি তারা বেগম (৫০), নিকট আত্মীয় শিমূলী বেগম (২০), জেষ্ঠ্য জামাই জাহিদ মিয়া (৩২), মেঝ জামাই ইমন মিয়া (২৮), নিকট আত্মীয় রোকসানা বেগম (২৫), ভায়রা মনির মিয়া (৩০), সোনা মিয়ার আরেক প্রতিবেশী খোরশেদ শেখের স্ত্রী দুলু বেগম (৪০)সহ সকলে বাড়ির টিউওয়েলের পানি পান করে এবং অসুস্থদের সেবা শুশ্রুষার পর তারাও অচেতন ও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরকেও উদ্ধার ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে প্রবাসী সোনা শেখের ভাবী পারুলী বেগম জানান, সকালে আমরা তাদের দরজা বন্ধ দেখে অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তাদের অচেতন অবস্থা দেখতে পাই। তিনি এবং প্রতিবেশী সিরাজ মাতুব্বর জানান, বাড়ির টিউবওয়েলের পানি যারা পান করেছে এবং অসুস্থদের সেবা যতœ করেছেন তারাই অচেতন হয়ে পড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, টিউবওয়েলের পানিতে কিংবা ঘরের মধ্যে দূবৃত্তরা কোন অচেতন সৃষ্টিকারী পদার্থ রেখে গেছে। অচেতন হওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীরা অনেকেই টিউওয়েলের পানি পান করা থেকে বিরত রয়েছে ও এলাকায় আংতক ছড়িয়ে পড়েছে।






মন্তব্য চালু নেই