মেইন ম্যেনু

‘ভাত সিদ্ধ হলো কি না, একটা টিপলেই বোঝা যায়’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদারীপুরে কলেজশিক্ষক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ফায়জুল্লাহ ফাহিম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘মায়াকান্না’ করেছেন।  এ থেকেই বোঝা যায়, গুপ্তহত্যার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই হাড়ির ভাত সিদ্ধ হলো কি না, একটা টিপলেই বোঝা যায়।’

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করেন। কথা বলেন বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে।

‘সেনাবাহিনী আমাদের সশস্ত্র বাহিনী’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। কাজেই তাদেরকে আরো গণমুখী এবং আরো শক্তিশালী যাতে হয়, তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। কুমিল্লা, কাদিরাবাদ, সৈয়দপুর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং সাভার ও জালালাবাদ সেনানিবাসে আর্মি স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গঠন করা হয়েছে।’

‘পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে চাই’

পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম পূর্ব শর্ত। একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান সৃষ্টিকারী এক পুঁজিবাজারের জন্য আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্সচেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন, কারচুপি, অনিয়ম শনাক্তকরণ ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য পুরস্কার নিয়ে আসি’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পুরস্কার পায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন একটা সম্মানজনক অবস্থানে আছে, যে কারণে বাংলাদেশ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, বাংলাদেশের জনগণের জন্য পুরস্কার নিয়ে আসি।’

‘বিরোধীদলীয় নেত্রী অনেকগুলি কবিতা আওড়েছেন’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের কবিতা পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় স্পিকার আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী অনেকগুলি কবিতা আওড়েছেন। সেটা, আমি উনাকে স্বাগত জানাই। শুধু একটা কবিতার ব্যাপারে আমি একটুখানি বলতে চাই। উনি বললেন, ‘বুঝি গো, আমি বুঝিগো ছলনা, কী তুমি বলিতে চাও, আমি বুঝি না’। এটা বোধ হয় উনার বাঁ দিকে যিনি (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ) বসে আছেন, তাঁর দিকে তাকিয়ে বললে ভালো হতো।’’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর উচ্চকিত হাসিতে মেতে ওঠেন সাংসদরা। আর জোরে জোরে চাপড়াতে থাকেন টেবিল।

ওই সময় রওশন এরশাদের বাঁ দিকে থাকা এইচ এম এরশাদও হাসেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রথমে বুঝতে পারিনি, উনি কাকে বলছেন। ভাবলাম যে, এরশাদ সাহেবকে উদ্দেশ্য করেই বোধ হয় বলছেন। আমি আশা করি, এরশাদ সাহেব, ভবিষ্যতে আর কোনো ছলনা করবেন না।’

‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না’

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সরকারে আসার পর থেকে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের স্থান হবে না। আর বাংলার মাটি ব্যবহার করে কেউ কোনো জঙ্গি তৎপরতা অন্য কোথাও চালাতে পারবে না। এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট শক্ত ভূমিকা নিয়েছি।’

‘হ্যাঁ, কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, সাথে সাথে সেগুলি তদন্ত করা, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের বিচারের ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথেষ্ট তৎপর। এবং এখানে অনেকগুলি বড় বড় ঘটনা ঘটাবার নানা রকম ষড়যন্ত্র হয়েছে। সেগুলি যথাসময়ে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য দিয়েছে। আমরা সেগুলি ধরেছি। এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক হলো যে, বিএনপি-জামায়াত যেভাবে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, এর থেকে বড় সন্ত্রাসী কাজ আর কী হতে পারে যে, প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা।’

‘আর এরপর যে গুপ্তহত্যা, যেটা আমরা আগেও আমরা একটু সন্দেহ পোষণ করেছিলাম। হঠাৎ গুপ্তহত্যা কেন? যেখানে মাদারীপুরে একজন শিক্ষক রিপনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাঁকে আঘাত করল। জনগণ, আমি ধন্যবাদ জানাই মাদারীপুরবাসীকে যে, জনগণ সাহসের সাথে সেই, মানে আঘাতকারী, তাকে ধরে ফেলল। এবং তাকে ধরা হলো, তাকে নিয়ে যখন আরো লোকজন ধরতে গিয়েছিল, সে   যা-ই হোক, ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে সে। গুলি খেয়ে মারা গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে লোকটা একজন কলেজশিক্ষককে মারতে যেয়ে জনগণের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে, তার জন্য খালেদা জিয়ার এত মায়াকান্না কেন-এটা আমার একটা প্রশ্ন। তার মানে কী দাঁড়াচ্ছে? ওই হাড়ির ভাত সিদ্ধ হলো কি না, একটা টিপলেই বোঝা যায়। ওই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, গুপ্তহত্যার সঙ্গে তাদের যে একটা সম্পর্ক রয়েছে। এবং প্রকাশ্যে করে যখন তারা জনগণের রুদ্ররোষের সম্মুখীন হয়েছে, এখন এই গুপ্তপথে এই সমস্ত ঘটনা তারা ঘটিয়ে দেশে একটা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।’






মন্তব্য চালু নেই