মেইন ম্যেনু

ভারতজুড়ে হামলার ছক কষেছিলেন দাউদ ইব্রাহিম

ভারতজুড়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম। গুজরাটের ভারুচে বিজেপির দুই নেতাকে খুনের ঘটনা এবং গোটা দেশে দাঙ্গা তৈরি করার প্ল্যান ফাঁস হয়েছিল ৭ জনকে গ্রেফতার করার পর।

শনিবার আহমেদাবাদের আদালতে দাউদ ঘনিষ্ঠ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। এই ১০ জনের মধ্যে অন্যতম দুই চক্রান্তকারী হল জাভেদ চিকনা এবং জাহিদ মিঞা। ভারুচের এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গুজরাটের সন্ত্রাস দমন শাখা উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর থেকে গ্রেফতার করেছিল অবিদ দাউদ প্যাটেলকে। এই আবিদ দাউদ ইব্রাহিমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ জাভেদ চিকনার ভাই। এনআইএ এই চার্জশিট দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারপোলকে চিঠি লিখে বলেছে পাকিস্তানে থাকা জাভেদ চিকনাকে চিহ্নিত করে তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে চাপ দেওয়া হোক।

২০১৫ সালের নভেম্বরে ভারুচের বিজেপি নেতা শিরিষ বাঙ্গালি এবং প্রাজ্ঞেশ মিস্ত্রি খুন হন। কিন্তু তদন্তে নামার পর এনআইএ জানতে পারে ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির একটি চক্রান্ত হয়। দাউদ ইব্রাহিম যে প্ল্যানটি করেছিল তা হল একদিকে হিন্দুত্ববাদী নেতাদের হত্যা করা এবং আরএসএস দপ্তরগুলিতে আক্রমণ। আবার অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে গির্জার ওপর হামলা করা।

জাভেদ চিকনার নাম আসার সঙ্গে সঙ্গে দাউদের বৃহত্তর প্ল্যান নিয়ে আবার উদ্বেগ মাথাচাড়া দিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সির। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এখন আর ছোটা রাজনের অস্ট্রেলিয়া কিংবা মালয়েশিয়ায় নেটওয়ার্ক নেই। সে এখন তিহার জেলে। যতদিন ছোটা রাজন বাইরে ছিল ততদিন সে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নানাবিধ খবর সরবরাহ করেছে। কিন্তু এখন আর সেই সোর্স নেই। সুতরাং ডি কোম্পানির প্রকৃত গতিপ্রকৃতি এখন আর আগের মতো জানা যায় না।

কিছুদিন আগেই দাউদের পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়েছে এবং করাচির লিয়াকত আলি হাসপাতালের ডাক্তাররা নাকি বলেছে তার পা কেটে বাদ দিতে হবে বলে গুজব ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি সেই খবরটি আদৌ সত্যি নাকি পুরোটাই গুজব। যে জাভেদ চিকনার ভাই গুজরাটের এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল সে সরাসরি দাদা জাভেদের থেকেই যে এই কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল তা স্বীকারও করেছে এনআইএর কাছে। দুবাইতে ১৯৯৩ সালে ইয়াকুব মেমন, টাইগার মেমনদের সঙ্গে মুম্বাই ছেড়ে চলে গিয়েছিল এই জাভেদ। ১৯৯২ সালের মোম্বই দাঙ্গায় তার পরিবার আক্রান্ত হয় এবং তারও পায়ে গুলি লাগে। ১৯৯২ সালের দাঙ্গার বদলা নিতেই দাউদ ইব্রাহিম, টাইগার মেমনকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৩ সালে ১২ মার্চ মুম্বইয়ে সেই ভয়ংকর বিস্ফোরণের চক্রান্ত করেছিল। আর সেই বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান পান্ডা ছিল জাভেদ চিকনা।






মন্তব্য চালু নেই