মেইন ম্যেনু

আসন্ন কোরবানি

ভারতীয় গরু আসা বন্ধে চাহিদা ফিরেছে ‘দেশি গরু’তে

আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কিছুটা আলোর মুখ দেখছেন দেশিয় গরু খামারিরা। কোরবানির পশু বিশেষ করে ‘গরু’ কে ঘিরে এবার মানসিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তিতে গ্রাম-মফস্বলের সাধারণ আমজনতা। তার কারণ আর কিছুই নয়- ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় ‘দেশিয় গরু’র চাহিদা ফিরে পেয়েছে তার পূর্বের ঐতিহ্য। পাশাপাশি স্থানীয় গরু খামারিরা কিংবা গ্রাম-মফস্বলের বেশির ভাগ বাড়িতে পোষা গরুরও চাহিদা ও মর্যাদা ফিরতে শুরু করেছে। ধংস হতে বসা দেশি গরুর চাহিদা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে অর্থনৈতিক ভাবেও।

বিগত কয়েক বছর যাবত ভারত থেকে কার্যত অবৈধপথে ও পন্থায় গরু আসে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তের খাটালের মাধ্যমে ওই সকল গরুর কাস্টমস কর্তৃক ভ্যাট আদায় করে বৈধতা দেয়া হতো। যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা শুধু তছরুপ-ই করা হতো না বরং একটি গরুর ভ্যাটের বিপরীতে শতশত গরু অবৈধ যোগসাজসে বিকিকিনি করা হতো। গরু ব্যবসাকে ঘিরে মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন চোরাচালানি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছিল তেমনি আইনশৃংখলারও অবনতি ছিল লক্ষণীয়। মুষ্টিমেয় কিছু লোক এ থেকে লাভবান হলেও ধংসের পথে বসেছিল দেশিয় গরুর খামারিরা।

ভারতীয় গরুর কারণে ভাইরাস ও অন্যান্য রোগবালাইয়ে সংক্রমিত হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে দেশিয় গরু। কোনমতে দুধ বিক্রি-ই ছিল গৃহপালিত দেশিয় গরুর একমাত্র আউটপুট।

এতোদিন ভারতীয় গরুর আধিক্যতায় দেশিয় গরু ও গরুর মালিকরা কোনঠাসা হয়ে নাস্তানাবুদ হলেও ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় দেশিয় গরুর চাহিদা ফিরতে শুরু করেছে।

বানিজ্যিক দেশিয় গরু খামারের পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জের প্রায় বেশির ভাগ বসতবাড়িতে এখনো গৃহকর্তা কিংবা তার স্ত্রী-সন্তানেরা ২/৪টি গরু পোষে। গাভীর পাশাপাশি বকনা গরুর চাহিদা ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন কোরবানিকে ঘিরে দেশিয় গরুর প্রতি ঝুকছেন ক্রেতারা। গরুর পাইকাররা বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও গরু কিনছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় পশু হাটগুলোতেও দেশিয় গরুর পর্যাপ্ত পরিমাণ আগমন ঘটছে। বিকিকিনিতে লাভবান হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়-ই। কোরবানির দিন আরো ঘনিয়ে আসলে বিকিকিনি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয় দেশি গরু বিক্রেতারা জানান।

তবে দেশিয় গরুর মালিকরা শংকিত ‘ভারতীয় গরু’ ফের বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে। দেশিয় গরু ও গরু খামার ধংসকারী একশ্রেণির দূর্বৃত্তরা এখনো সক্রিয় ভারত থেকে গরু আনার প্রক্রিয়ায়। আর সেই আশংকা থেকেই কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত দেশিয় গরু থাকা সত্বেও শংকিত দেশি গরু পোষা সাধারণ গৃহকর্তারাও।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান জানান, তাঁর উপজেলায় কমবেশি ৩৪০টির মতো গরুর খামার রয়েছে। তাছাড়া প্রায় বাড়িতে ৫/৭টি গরু পোষা হয়ে থাকে। এখানে কমপক্ষে সুস্থ্য কয়েক হাজার গরুর পরিসংখ্যন রয়েছে। এছাড়াও প্রায় বসতবাড়িতে গরুর ছোট বাছুর পোষাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ফের চোরাপথে বাংলাদেশে ভারতীয় গরু আসার আশংকায় শংকিত ডা. এএসএম আতিকুজ্জামানও। তিনি জানান, কলারোয়া উপজেলার কয়েকটি সীমান্তপথ দিয়ে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে এসে সোনাবাড়িয়া কাস্টমস করিডোরের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করা হয়ে থাকে। নিয়ম আছে যে, রেজিস্ট্রার ভেটেনারিয়ান ও লাইভস্টোক অফিসার দিয়ে সার্টিফাই করতে হবে- ভারত থেকে আসা ওই সকল গরুর সুস্থতা পরীক্ষার বিষয়টি। কিন্তু সেটা না করে স্থানীয় হাতুড়ে কথিত পশু চিকিৎসক দিয়েই সেটা যতসামান্য করা হয়। ফলে ভারতীয় গরু থেকে ক্ষুরা, র‌্যাপিড, চরকা, এ্যানথ্রাক্স, জলাতংকসহ অন্যান্য রোগে সংক্রমিত হয়ে পড়ছে দেশিয় গরু। ভারতীয় গরু থেকে সংক্রমিত হয়ে অনেকসময় দেশিয় গরু মারাও গিয়েছে।

কোরবানির চাহিদা পূরণ দেশিয় গরু দিয়ে সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ‘মার্কেটিং’ বিষয়ে ‘এমবিএ’ ডিগ্রিধারী ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান বলেন, অবশ্যই সম্ভব। কয়েক বছর আগে যখন ভারত থেকে গরু আসতো না তখন কি কোরবানি করা হতো না? তিনি আরো জানান, স্থানীয় জনপদের চাহিদা পূরণ রেখে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশি গরু যাচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে স্থানীয় গরুর খামারের ‘ক্ষুদ্র শিল্প’গুলো অচিরেই ‘বৃহৎ শিল্প’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সাবলম্বি হবে স্থানীয় আমজনতা। গরু পুষে বেকার সমস্যার সমাধান ও অর্থনৈতিক পুজিবাজারে গরু খামার একটি মডেলে রূপ নিলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।






মন্তব্য চালু নেই