মেইন ম্যেনু

ভারতীয় ডিমে সাতক্ষীরার বাজার ভরে গেছে, অবাধে আসেছ নেশা সামগ্রী

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তের চোরাচালানের পয়েন্ট গুলো গত কয়েক মাস ধরে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।চোরাচালানীরা ভারত থেকে অবাধে নিয়ে আসছে মদ, ফেনসিডিল,নেশা জাতীয় ট্যাবলেট, থ্রী পিছ,শাড়ি, সার-কীটনাশক,ডিম,কসমেটিক্স সহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রন্ক্সি পণ্য সামগ্রী।এদেশ থেকে পাচার করছে সোনা, ইলিশমাছ, রসুন, সুপারী ।বতর্মানে সাতক্ষীরা জেলার বাজার গুলো ভরে গেছে ভারতীয় ডিমে। আর ঐ সমস্ত চোরাচালানীর কাজে পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করছে জেলার বিভিন্ন থানার দায়িত্বে থাকা অসাধু কিছু পুলিশ সদস্য ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি এর এক ধরনের অসাধু অফিসার ও জওয়ানরা।

সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে প্রায় সারা দিন সারা রাত দল বেধে চোরাচালানীরা ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে আসছে। ভারতীয় মালমাল নিয়ে আসার কাজে তারা মটর সাইকেল,নছিমন,পিকআপ,ব্যাটারী ভ্যান সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করছে।প্রায়ই দেখা যায়, এক সাথে ২০ থেকে ৩০ মটর সাইকেল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সীমান্ত এলাকা থেকে ছুটে আসছে জেলা শহর বা উপজেলা সদরের বাজারের দিকে। এ সময় তারা রাস্তার লোকজন ফাকা করার জন্য উচ্চস্বরে চেচামেচি করে এবং বাঁশি বাজিয়ে এক প্রকার ভীতি কর পরিবেশের সৃষ্টি করে। প্রায়ই সময় দেখা যায় ২০ থেকে ২৫ টি বা তার ও বেশি নছিমন বোঝায় ভারতীয় মালামাল নিয়ে ছুটে আসছে জেলা শহর বা উপজেলা শহরগুলোর দিকে।

জেলার কলারোয়া পৌর বাজারের কাঁচাবাজার,কাছারী মসজিদের পাশে,তুলশীডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বসে এসব অবৈধ মালামালের হাট। প্রকাশ্য দিনের বেলা ঐ সমস্ত মালামাল বিক্রি হয়। পুলিশ অথবা বিজিবি এর উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের বিষয়টি অজনা নয়। কিন্ত রহস্য কারনে ঐ সমস্ত মালামাল আটক করে না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো কিছু মালামাল জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আটক করা হয়। যার পরিমান একেবারেই কম।

সম্প্রতি বাণের পানির মত আসছে ভারতীয় নিন্ম মানের মুরগীর ডিম। নছিমন, করিমন, থ্রী হুইলার সহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আসছে ঐ সমস্ত ডিম। বিজিবি এর সদস্যরা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে ঐ ডিম গুলো। বাজারে খোজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত থেকে চোরাই পথে আসা সাদা রংয়ের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ২০ টাকা। কিন্ত দেশীয় পোট্রি খামারের উৎপাদিত ডিম প্রতি হালির দাম ৩২ থেকে ৩৬ টাকা । দেশীয় ডিমের চেয়ে ভারতীয় ডিমের দাম কম । সে জন্য ক্রেতারা ভারতীয় ডিম কেনার পক্ষে ঝুকছেন বেশী। আর এ কারনে সাতক্ষীরা জেলার ডিম উৎপাদনকারী প্রায় ৫ শতাধিক খামারীরা পড়েছেন মহা বিপদে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে ভারতীয় ডিমের সাথে অহরহ আসছে কচ্ছপের ডিম। যা মুসলিমদের জন্য একে বারেই হারাম।

এখন চলছে আমন ধানের মৌসূম। ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এ চাহিদা মেটানোর জন্য চোরাচালানীরা অবৈধ ভাবে ভারত থেকে নিয়ে আসছে নিন্ম মানের ইউরিয়া সার ও ক্ষতিকারক কীটনাশক।যে গুলোর দাম অনেক কম। এ কারনে সীমান্ত এলাকার কৃষকেরা ব্যাপক ভাবে ঐ সমস্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে করে কৃষকেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তেমনি পরিবেশের মারত্নক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় শিল্প কারখানা ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অভিযোগ আছে সাতক্ষীরা জেলার অনেক সার ব্যবসায়ীগন ভারতীয় সার দেশীর বস্তায় ভরে বিক্রি করছেন।

ভারত থেকে আসা মদ,ফেনসিডিল,নেশাজাতীয় ট্যাবলেট সেবন করে যুব সমাজ ধ্বংশের দারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে।

সম্প্রতি কালে সাতক্ষীরা জেলা সোনা পাচারকারীদের নিরাপদ রুট হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে। দুটি একটি চালান ধরা পড়লে ও বিজিবি ,পুলিশ শুধু বহন কারীদের আটক করেছে। আসল চোরাচালানীদের আটক করতে পারছে না।তারা থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

আর এসব কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা জেলাকে চোরাচালান মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রসাশনের কতৃপক্ষের অভিমত।






মন্তব্য চালু নেই