মেইন ম্যেনু

ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ ‘পঁচা শামুক’!

সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশ যখন কুড়িয়ে নিচ্ছে তাবৎ বিশ্বের প্রশংসা। সেখানে ভারতীয়রা বাংলাদেশের উত্থানকে কোনভাবেই মানতে পারছে না। বাংলাদেশকে ‘পচা শামুক’ বলেও আখ্যায়িত করছে ভারতের বেশকয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বহুল প্রচারিত দৈনিক আজকাল ‘পঁচা শামুকে পা কাটার ভয় যাচ্ছে না!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা লিখেছে, “বাংলাদেশকে হারানো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। তবু ‘পচা শামুকে পা কাটা’র আতঙ্ক তো থেকেই যায়।”

এছাড়াও বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে থাকায় হেয় করেছেন তারা। লিখেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের এতটা দুর্দশা হয়নি। টোয়েন্টি ২০ বিশ্ব ক্রমতালিকায় ১০ নম্বর দলকে হারাতে ১ নম্বর দলের চক্রান্তের দরকার হয় না। আর বিরাট কোহলিরা যেরকম ফর্মে রয়েছেন, তাতে তো কোনও কথাই নেই।’

কিন্তু গত এক বছর চারবার ওয়ানডেতে মোকাবেলা করে দুই দলই জয় পেয়েছে দুটি করে। হেরেছে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ। একটি টেস্ট হয়েছে ড্র। যদিও গতবছরে একটি মাত্র টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মোকাবেলায় জয় পেয়েছে ভারত। তবুও বাংলাদেশের সর্বশেষ পারফরম্যান্সকে পাত্তাই দিচ্ছে না তারা। এমনকি এশিয়া কাপের ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল বাংলাদেশ। অথচ ভারতীয় চোখকানা মিডিয়াগুলো এখনও পড়ে আছেন বিশ বছর আগের ক্রিকেটে।

ক্রিকেটে তো কোন দেশ এক দিনে উঠে আসতে পারেনি। ভারতও না। ১৯৩২ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্ত হয় ভারত। এরপর প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০ বছর। অথচ বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর জয় পেয়েছে পাঁচ বছরের মাথায়। ১৯৭১ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারত প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে, প্রায় আট বছর পর।

অথচ ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালেই প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় তুলে নিয়েছিল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলতে এসে পেয়েছিল ২টি জয়। স্কটল্যান্ডের পর সেবারের ফাইনালিস্ট পাকিস্তানকেও হারিয়েছিল টাইগাররা।

২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরেই তো ভারতের বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল। সেদিন, তামিম-সাকিব আর মাশরাফিদের সামনে রীতিমত অসহায় হয়ে পড়েছিল ভারতীয়রা। ২০১২ এশিয়া কাপে এসে শচীন টেন্ডুলকার পেয়েছিলেন শততম সেঞ্চুরির দেখা। ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষেই। অথচ, ওই ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে লজ্জ্বাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল ভারতকে।

ভারতকে পরাজয়ের স্বাদ দেয়ার স্মৃতি তো বাংলাদেশের কাছে আরও তরতাজা। তরুন মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের কাছে ভারতের সিরিজ পরাজয়ের লজ্জার পর তো এখনও এক বছর পার হয়নি।

ajkal20160323113350

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পৃথিবীর যে কোন দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে টাইগাররা। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতেও ভালো খেলছে। টেস্ট রেকর্ডটাও খারাপ নয়। পাকিস্তান, শ্রীলংকার মত দলকে হারিয়ে খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। অথচ ভারতীয়দের এখনও নিজেদের অহম যেন কমছেই না। গর্বে পা মাটিতেই পড়তে চাইছে না। আইপিএলের সুবাদে ক্রিকেটকে নিজেদের বাজার বানিয়ে ফেলায় অর্থের অহংকারে আকাশে উড়ছে তারা। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়ার পর তাদের কাছে বাংলাদেশ এখনও ‘পচা শামুক’।






মন্তব্য চালু নেই