মেইন ম্যেনু

ভারতের এ যাবৎকাল পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবির গল্প

ছবির নাম ‘বাহুবলী’ যার অর্থ শক্তিশালী মানুষ। নির্মাণ ব্যয় ও ছবির পরিসরের কারণে ছবিটি এখন তুমুল আলোচনায়। এখন পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি হিসেবে নাম হয়েছে বাহুবলীর। পরিচালক এস. এস. রাজামৌলির এ ছবি কিন্তু বলিউডে তৈরি হয়নি। ছবিটি দক্ষিণ ভারতের। দক্ষিণের একটি ছবির পেছনে যখন এত পয়সা খরচ হয়, তখন সে ছবির পেছনের অনেক গল্প অজানাই থাকতে পারে। সম্প্রতি বাহুবলী ছবিটি নিয়ে বার্তা সংস্থা সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধ নিয়ে এক বিশাল পরিসরের ছবি বাহুবলী। দুই সিরিজে মুক্তি পাবে ছবিটি। বাহুবলী দ্য বিগিনিং নামে এর প্রথম অংশটি মুক্তি পেয়েছে ১০ জুলাই। ছবির দ্বিতীয় অংশ ঠিক কবে মুক্তি পাবে সে বিষয়ে অবশ্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সিএনএন লিখেছে, দারুণ এক চমক উপহার দিল ভারতের চলচ্চিত্র। তবে সে চমক বলিউড থেকে নয়; এসেছে হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রের ঘাঁটি মুম্বাইয়ের অনেক দূরের এলাকা থেকে। তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্র পরিচালক রাজামৌলি বানিয়েছেন বাহুবলী, যাতে স্থানীয় গল্পগাথার সঙ্গে মিশেছে হলিউডের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ।
ছবির ব্যয় ৪০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যা হয়তো হলিউডের অনেক ছবির কাছে কিছুই নয়। কিন্তু ভারতের হিন্দি ছবির বাজে​টের সঙ্গে তুলনা করলে তা অনেক বেশিই বলতে হবে। ভারতে সাধারণত বড় বাজেটের ছবিগুলোতে সর্বোচ্চ ২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়।

ছবিটি মুক্তির পর এখন পর্যন্ত প্রশংসিতই হয়েছে। হলিউডের ছবির সঙ্গেও এর তুলনা করছেন অনেক সমালোচক। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ শুভ্র গুপ্ত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘অনেক ছবিতে স্কেল ও প্রদর্শনী থাকে, বাহুবলীর সঙ্গে কাহিনিও রয়েছে। ছবির বিভিন্ন জায়গায় পরিচালক অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন জেমস ক্যামেরনের পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ স্বপ্নের জগৎ থেকে, অ্যাং লির আকাশে ওড়া অ্যাক্রোব্যাটিক কিংবা পিটার জ্যাকসন থেকে।’

ছবিপ্রেমী ও সমালোচকদের মধ্যে বাহুবলী বেশ সাড়া বা আগ্রহ জাগাতে পেরেছে। বাহুবলী ছবিটিকে অনেকেই ফ্যান্টাসি ওয়ার ফিল্ম থ্রি হান্ড্রেডের সঙ্গে তুলনা করছেন।ছবিপ্রেমী ও সমালোচকদের মধ্যে বাহুবলী বেশ সাড়া বা আগ্রহ জাগাতে পেরেছে। বাহুবলী ছবিটিকে অনেকেই ফ্যান্টাসি ওয়ার ফিল্ম থ্রি হান্ড্রেডের সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ছবি রেটিংয়ের ওয়েবসাইট আইএমডিবিতে থ্রি হান্ড্রেড ছবিটির চেয়ে বাহুবলী বেশি রেটিং পেয়েছে। থ্রি হান্ড্রেড ছবির রেটিং যেখানে সাত দশমিক আট সেখানে বাহুবলীর রেটিং সাড়ে নয়। ১০ এর মধ্যে সব রেটিং হিসাব করা হয়। ছবির পরিচালক রাজামৌলি দাবি করেছেন, বাহুবলীর সঙ্গে থ্রি হান্ড্রেড ছবির কোনো মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়।

be15ba8b29006f24e7bf9455e7a96c65-Bahubali-first-look

বাহুবলী হচ্ছে এক রাজপুত্রের গল্প, যাকে শৈশবেই রাজ্য ছাড়তে হয় মার সঙ্গে; পালিয়ে। পরে সেই-ই আবার সিংহাসনের দখল নিতে ফিরে আসে। কিন্তু তার আগে তাকে লড়তে হয় বিশাল এক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ছবিতে ভালো ও মন্দের মধ্যকার যুদ্ধকে প্লট হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

বাহুবলী ছবিতে অভিনয় করেছেন আনুশকা শেঠী, রানা দাগুবতী, তামান্না ও প্রভাস। বাহুবলী তৈরির আগে ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি ছিল শাহরুখ খানের রাওয়ান। রাওয়ান তৈরিতে ২৭ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। যেখানে বাহুবলী তৈরির খরচ ৩৯ মিলিয়ন ডলার।

ছবিটি কেন মানুষকে আকর্ষণ করবে সে প্রসঙ্গে রাজামৌলি বলেন, ‘স্পেশাল ইফেক্ট বা বড় বাজেটের কারণে শুধু নয় এই ছবির যে আবেগ তা মৌলিক ও আঘাত করার মতো।’

ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে বলিউডের ছবি যতটা জনপ্রিয় তেলেগু বা তামিল ছবি ততটা জনপ্রিয় না। তবে বাহুবলীর ক্ষেত্রে ইউটিউবে এর ট্রেলার দশ লাখেরও বেশি দেখা হয়েছে। ফেসবুকে এই ছবিটির ট্রেলার দেখা হয়েছে ১৫ লাখ বার। এটি দুই লাখ শেয়ার ও তিন লাখ লাইকও পেয়েছে।

baahubali-new-stunning-poster

ছবিটির শুটিং হয়েছে হায়দরাবাদের রামোজি স্টুডিওতে। এটি তেলেগু, হিন্দি, তামিল ও মালায়ালাম ভাষায় ডাবিং করা হয়েছে। ছবির প্রযোজকেরা বলছেন, ভারতের সব আঞ্চলিক ভাষাতেই এটি প্রদর্শিত হবে। প্রায় ২০০ একর জমির ওপর এ ছবির সেট তৈরি করতে সময় লেগেছে দুই শ দিন। পুরো ছবিটি নির্মিত হয়েছে তিন বছর ধরে। ছবির শুটিং শুধু হায়দরাবাদেই নয় দেশের বাইরে বুলগেরিয়ার পর্বতে, ভারতের মহাবালেশ্বর জঙ্গলেও হয়েছে।

চলচ্চিত্র সমালোচক ববি সিং বলেন, ‘কারিগরি দিক থেকে রাজামৌলি বিশাল এক মাস্টারপিস তৈরি করেছেন।
৪১ বছর বয়সী রাজামৌলির সাম্প্রতিক ছবির নাম ‘ইগা’ বা মাছি। তেলেগু ভাষার ওই ছবিতেও কাল্পনিক গল্প ব্যবহার করেছেন তিনি। ছবির মূল চরিত্র মারা যাওয়ার পর মাছি হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ এবং প্রতিশোধ নেয়া।

পরিচালক হিসেবে রাজমৌলিকে পারফেকশনিস্ট বা নিখুঁত বলেই মনে করেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। বাহুবলী ছবিটি প্রি-প্রোডাকশন কাজের জন্যই এক বছর সময় নিয়েছেন তিনি। ছবি তৈরির অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন তাঁর ভালোলাগা পৌরাণিক কাহিনি থেকে।






মন্তব্য চালু নেই