মেইন ম্যেনু

‘ভারতের দালাল হওয়ার প্রয়োজন নেই’

সুন্দরবনের রামপাল ইস্যুতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারেন আর নাই পারেন, এই মুহূর্তে ভারতের দালাল হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা দেশের জনগণের পক্ষে থাকবেন।’

রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে ‘রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র : কারিগরি, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ত্রিমাত্রিক বিপত্তি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (অ্যাব) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব ভারতের দালাল হওয়ার কোনো রকমের প্রতিযোগিতায় আপনাদের নামার দরকার নাই। আর ভারতের যারা দালাল আছে তারা এমন জায়গায় নিজেদেরকে নামাতে পারে, যা আপনারা চেষ্টা করেও পারবেন না। বরং আপনাদের বাংলাদেশের কন্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা সব সময়ে অব্যাহত রাখবেন।’

সুন্দরবনের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে যদি সংরক্ষিত এলাকা বা বনাঞ্চলের কোনো ক্ষতি নাই হয় তবে ভারতে গত জুন মাসে কেন চারটি বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হলো? যদি ভারতেই বিদ্যুৎকেন্দ্র না হতে পারে তাহলে বাংলাদেশে কীভাবে হয়?’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভারতের আইনে বলা আছে যে, রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে পারবে না, সেখানে বাংলাদেশের একমাত্র সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের পাশে কীভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়? এ ব্যাপারে অনেকেই তো রামপালের পক্ষে অনেক কথা বলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীসহ কারো মুখে তো এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি।’

আইন বিভাগের এই অধ্যাপক আরো বলেন, ‘দেশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বললেই যদি ভারতবিরোধী হয়, তবে ক্ষমতাসীন কয়েকজন ছাড়া সুলতানা কামাল, খুশি কবিরসহ বাংলাদেশের সবাই ভারতবিরোধী।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখন এমন একটা স্টেজে পৌঁছে গেছে যে কোনো যুক্তির্তকের বালাই নাই। ইউনেস্ককো থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে সেটাও নাকি ভারত বিরোধীদের মতামতে প্রভাবিত হয়ে করা হয়েছে। আমাদের একটা কথাই বলার আছে রামপাল প্রজেক্টে অর্থনৈতিক ও পরিবেশের ক্ষতি হবে। আমার নিজের কাছে মনে হয়, যদি রামপাল প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের অস্থিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি সুন্দরবন নষ্ট হয়, ধ্বংস হয় তাহলে এই বাংলাদেশ টিকে থাকবে না, একটি কদার্য্য কুৎসিত বাংলাদেশ হয়ে বেঁচে থাকবে।’

‘সত্য হলো যারা সুন্দরবনের রামপালের পক্ষে কথা বলেন তারা দেশ নিয়ে ভাবেন না। নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মকে বিদেশে রাখার চিন্তা করেন। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে বহু টাকা তারা জমা করে থাকেন’ বলেন আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। সুন্দরবনের ক্ষতি তো হবেই উপরন্তু সেখানকার নদীগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক নেতা রহুল আমীন গাজী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস ইসলাম, ড. সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, শিক্ষা সম্পাদক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই