মেইন ম্যেনু

ভারতে না ফিরে আফ্রিকার পথে জাকির নায়েক!

ভারতে ফেরা বাতিল করে শেষ মুহুর্তে হঠাৎ আফ্রিকার পথে পাড়ি দিচ্ছেন ‘বিতর্কিত’ ধর্মীয় টিভি ব্যক্তিত্ব ড. জাকির নায়েক—যাকে নিয়ে গত কিছুদিন ধরে তোলপাড় চলছে ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে।

সৌদি আরবে উমরাহ শেষে জাকির নায়েক সোমবার সকাল আটটা নাগাদ মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন বলে কথা ছিল।

কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত ভারতে ফেরেননি। কেন তিনি আজ মুম্বাইতে ফিরলেন না, কবে ভারতে ফিরবেন সে ব্যাপারেও তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।

তবে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ড. নায়েক সৌদি আরব থেকেই সোজা আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আগামী কয়েকদিন আফ্রিকারই কয়েকটি দেশে তার নানা কর্মসূচি রয়েছে’।

তবে আফ্রিকার কোন কোন দেশে তিনি যাবেন এবং কী করবেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাতে অস্বীকার করেন।

আফ্রিকার সঙ্গে অবশ্য ড. জাকির নায়েকের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইসলামি তাত্ত্বিক নেতা আহমেদ হুসেন দিদাতকে ড. নায়েকের অনুপ্রেরণা ও গুরু বলে ধারণা করা হয়। আহমেদ হুসেন দিদাত ২০০৮ সালে মারা যান।

কেনিয়া, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বহু দেশেই পিস টিভি-র সম্প্রচার হয়, সে সব দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই চ্যানেলের বিপুল জনপ্রিয়তাও আছে।

এর আগে মুম্বাইতে জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ঘোষণা করেছিল আগামীকাল মঙ্গলবার ড. নায়েক দেশে ফিরে একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।

তার ভারতে ফেরা বাতিল হওয়ার পরও জানানো হয়েছিল মঙ্গলবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল হচ্ছে না—সৌদি আরব থেকে স্কাইপেই ড. নায়েক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেবেন।

শেষে কিন্তু সেই স্কাইপ সম্মেলনও বাতিল করে দেওয়া হয়—এর পরিবর্তে সোমবার সন্ধ্যার দিকে জাকির নায়েকের পক্ষ থেকে জারি করা হয় তার স্বাক্ষরিত বিবৃতি।

সেখানে ড. নায়েক বলেন,‘আমি কখনও সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতাকে কোনও আকারেই সমর্থন জানাইনি। জীবনে কখনও সমর্থন করিনি কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকেও’।

ভারতের কোনও নিরাপত্তা সংস্থার কোনও কর্মকর্তা তার বক্তৃতার ব্যাখ্যা চেয়ে এখনও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও জাকির নায়েক দাবি করেছেন। করলে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে হঠাৎ আফ্রিকা সফরে যাওয়ায় সহসাই তার ভারতে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

সাধারণত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে অনেক আগে থেকেই দেশে-বিদেশে জাকির নায়েকের কী কী কর্মসূচি রয়েছে তা আগাম ঘোষণা করা হয়ে থাকে, তার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

কিন্তু, জুলাই মাসে জাকির নায়েকের আফ্রিকা সফরের কথা সেখানে কোথাও কিন্তু উল্লিখিত ছিল না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন মধ্যরাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামের একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১৭জন বিদেশিসহ ২২ ব্যক্তি নিহত হন। যৌথবাহিনীর উদ্ধার অভিযানে ৬ জঙ্গিও নিহত হন। পরে হামলার ঘটনায় জড়িত দুই জঙ্গির ফেসবুক পেজে ড. নায়েকের পোস্ট শেয়ার করা দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ড. নায়েককে জঙ্গিদের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতের কট্টরপন্থী দল শিবসেনা। পরে আরও কয়েকটি সংগঠনের দাবির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আমলে নেয় ভারত সরকার। তারা বিভিন্ন রাজ্যে ড. নায়েকের পিস টিভি চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের জন্য বার্তা পাঠায়। ভারত থেকে বাংলাদেশেও চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের দাবি ওঠায় বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। শনিবার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সেসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘ড. জাকির নায়েক একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং বাংলাদেশে ভীষণ জনপ্রিয়। তাই যাচাই না করে তার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।’ তবে সেদিনই বাংলাদেশের ক্যাবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর নেতারা পিস টিভি চ্যানেলটি দেখানো বন্ধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেন। এর পরদিন রবিবার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পিস টিভি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ওই কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পিস টিভির ডাউনলিংকের অনুমতি বাতিল করে বাংলাদেশ সরকার।






মন্তব্য চালু নেই