মেইন ম্যেনু

ভারত থেকে চাল আমদানি চলছেই : সর্বনাশ দেশের কৃষকের

কৃষি এলাকা খ্যাত যশোরের শার্শা-বেনাপোলে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। সরকার চালের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করলেও ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ নেই। ফলে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। সরকার চাল আমদানির উপর ২ দফা শুল্ক বৃদ্ধি করেও আমদানি বন্ধ করতে পারছে না।

গত ১০ দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। তবে সাধারণ চালের চেয়ে পোলার চাল আমদানি বেশি হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাসমতি, নন বাসমতি ও পোলার তিন ধরনের চাল আমদানি হচ্ছে। বাসমতি চাল বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে প্রতি টন ১৫৬০ মার্কিন ডলারে, নন বাসমতি প্রতিটন ৩৯০ থেকে ৪১০ মার্কিন ডলারে ও পোলার চাল প্রতিটন ৪৭০ মার্কিন ডলার মূল্যের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।

ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে চালের দাম কমে গেছে। ফলে কমে গেছে ধানের দামও। এদিকে উৎপাদন খরচ না উঠায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলন হলেও ভারতীয় চালের প্রভাবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে।

এবার উপজেলায় ২০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে উপশি ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে। ক্রয়কৃত ধান থেকে চাল উৎপাদন করে বর্তমানে প্রতি কেজিতে চাতাল মালিকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ২ টাকা ১৫ পয়সা।

জানা যায়, শুল্কমুক্ত অবস্থায় ভারত থেকে চাল আমদানি হতো। সম্প্রতি সরকার ভারতীয় চাল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহী করতে প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ২০ শতাংশ হারে শুল্ককর বসিয়েছে। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে এখনও চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২২মে পর্যন্ত ভারত থেকে বিভিন্ন নামে ১ লাখ ২১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত মানের চাল আমদানি দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৭৪৫.২৯ মেট্রিক টন।

বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের চাষি আব্দুস সাত্তার জানান, সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা। বাজারে সেই জমির ধান বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার ২শ টাকায়। লাভ তো দূরের কথা প্রতি বিঘায় কৃষকদের লোকসান হচ্ছে ৮শ টাকা। তারপরেও কমমূল্যে ধান বিক্রি করে পাওনা টাকা হাতে আসছে না।

একই গ্রামের আর এক চাষি আনারুল ইসলাম বলেন, বেশকিছু দিন হলো ধান ঘরে উঠেছে। জমিতে পরবর্তী ফসলের চাষ করতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারিনি। এতে হাতে টাকা না থাকায় আবাদি জমি পড়ে আছে, অন্য চাষ শুরু করতে পারছি না।

বড় আঁচড়া গ্রামের হবিবর রহমান হবি জানান, সরকার পেট্রলের দাম কমিয়েছে ১০ টাকা আর ডিজেলের দাম কমিয়েছে ৩ টাকা লিটারে। কৃষকরা ধান চাষে ডিজেল ব্যবহার করে থাকে। মোটর গাড়ি চালাতে জানে না কৃষকরা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সরকার বাঁচবে। ভারত থেকে চাল আসছে। আমাদের দেশের চালের দাম নেই।

নাভারনের চাল আমদানিকারক নাভারন ট্রেডার্সের পরিচালক হযরত আলী জানান, ভারতীয় চালের মান উন্নত হওয়ায় দেশীয় বাজারে ওই চালের চাহিদা রয়েছে। তাই তারা আমদানি করছেন। প্রতিদিন আসছে ভারতীয় চাল। স্থানীয় চালের দাম বেশী হওয়ায় বেচাকেনায় সমস্যা হচ্ছে।

শার্শার চৌধুরী অটোরাইস মিল শ্রমিক নুর উদ্দিন গাজী বলেন, ভারতীয় এলসির চাল আসাই তাদের মিলে কোন কাজ নেই। শতাধিক শ্রমিককে কাটাতে হচ্ছে অমানবিক জীবন যাপন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিরক কুমার সরকার জানান, এবার উপজেলাতে ২১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাষিরা অন্য চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় ২০ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার ৯২০ টাকা মণ দরে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মাসের ৫ মে থেকে ধান কেনার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা এখনও শুরু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে চাষিরা প্রয়োজন মেটাতে কম মূল্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।

শার্শা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাকে কৃষকদের তালিকা না দেওয়ায় তিনি ধান সংগ্রহ শুরু করতে পারছেন না। চাষিদের তালিকা এখনও প্রস্তুুত হয়নি বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা হিরক কুমার সরকার।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা অমিত বরণ দাস জানান, ২০ শতাংশ শুল্ক মূল্য পরিশোধে ভারতীয় চালের আমদানি অব্যাহত আছে। তবে বর্তমানে চাল আমদানি পূর্বের তুলনায় কমেছে।






মন্তব্য চালু নেই