মেইন ম্যেনু

ভাড়ায় নৈরাজ্য: মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার তাগিদ

বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে রাজধানীতে রীতিমত নৈরাজ্য চলছে। সিএনজির দাম বাড়ার পর সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর পর নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করছে বাস মালিকরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সীমিত অভিযানের কোন সুফলই পাচ্ছে না নগরবাসী।

পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এর আগেও বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে পারেনি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বরং দুই চালককে কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে নগরীতে বাস বন্ধ রেখে রাজধানীতে এক দিনের জন্য ‘নরক যন্ত্রণা’ তৈরি করেছিল বাস মালিকরা।

যাত্রীদের জিম্মি করার কৌশলে বাস বন্ধ রেখে বাস মালিকরা তাদের শক্তি দেখিয়েছে বলে মনে করেন যাত্রীরা। যাত্রী ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ না দেয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছে বাস তারা।

যাত্রীদের জিম্মি করে মালিক-শ্রমিকের এমন বারেবারে ধর্মঘটকে সরকারের দুর্বল পরিকল্পনার ফসল বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা। তারা বলছেন, সরকারি সংস্থা মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। আর শ্রমিকরা একজোট হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে মালিকরা। বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও আইন না মানার দায়ে কোন বাসের রুট পারমিট বাতিলের উদাহরণও নেই।

জানতে চাইলে সুশানের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন  বলেন, ‘দেশে এখন জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে চলছে। এখানে আইনের কোন বলাই নেই। এটা অসুস্থ সমাজের প্রতিফলন। এভাবে যদি চলতে থাকে দেশের আইন কাঠামো ভেঙে যাবে’।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘বিশৃঙ্খল পরিবহন খাতে এভাবে অভিযান পরিচালনা করে কখনোই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বিআরটিএ যখন নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করে তখন তারাতো পরিবহন মালিকদের সাথে চুক্তি করে। চালক ও তার সহযোগীদের সাথে নয়। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল না করে তারা চালক ও তার সহকারীদের শাস্তি দেয়। ভাড়াতো শ্রমিক নয়,মালিকরাই নির্ধারণ করে’।

এই পরিবহণ বিশেষজ্ঞ বলেন, যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে কোম্পানি নির্ভর গণপরিবহন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। কলকাতায়ে এভাবেই যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা গেছে।এ ব্যবস্থা চালু হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সরকার তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বিআরটিএ অবশ্য বলছে, তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন,‘আমরা বেশিরভাগ সময়েই মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। তাদের শোকজ, আর্থিক পরিমানা করা হয়। কিছু বাসের রুট পারমিট বাতিলও করা হয়েছে’।

রবিবারে রাজধানীতে বাস ধর্মঘট প্রসঙ্গে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, এটা ছিল ভুল বুঝাবুঝি। পরে আমরা মালিক-শ্রমিকের সঙ্গে আলোচনা করে সামাধান করে নিয়েছি’।

সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে রাজধানী ও চট্টগ্রাম এবং আশপাশের জেলায় প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ১০ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু কিলোমিটার প্রতি ২০ থেকে ৫০ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বাস মালিক-শ্রমিকরা। ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই