মেইন ম্যেনু

ভিডিও দেখে ফেলায়, অবশেষে যা ঘটলো রিক্তার জীবনে

কুষ্টিয়া মডেল থানার কনস্টেবল রিক্তার সঙ্গে স্বামী সেলিম আহমেদের অবধ্য মেলামেশার ভিডিও দেখে ফেলা কাল হয়েছে নূরজাহান আক্তার বৃষ্টির (২৬)। এজাহারে এমন দাবিই করেছেন বৃষ্টি। কনস্টেবল রিক্তার প্ররোচনায় স্বামীর অমানুষিক পিটুনিতে বৃষ্টি এখন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্বামী, দেবর ও শাশুড়ির নামে মামলা করে আতঙ্কে দিন কাটছে তার। এদিকে নানামুখী চাপে এজাহারে নাম দিলেও পুলিশ রিক্তাকে আসামি করতে পারেননি। সেই সঙ্গে রয়েছে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত মোবাইলের মেমোরি কার্ড হারানোর শঙ্কা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কুষ্টিয়া শাখার তত্ত্ব্বাবধানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃষ্টির যাবতীয় ব্যয় বহন করছে। লিওন ফার্মাসিউটিক্যালসের চাকুরে স্বামীর পিটুনির যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কুষ্টিয়া থেকে পালিয়ে খুলনায় মায়ের কাছে গিয়েও ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই হয়তো আশ্রয় পাননি অসহায় বৃষ্টি। কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলার আসামিরা হলেন- সেলিম আহমেদ (৩০), শিবলু আহমেদ (২০) ও শাহানারা খাতুন ওরফে টুলু (৪৮)।

সূত্র আরও জানায়, বৃষ্টি রায় সেলিমকে ভালোবেসে ত্যাগ করেছিলেন বাপ-দাদার ধর্ম, আত্মীয়স্বজন। যশোরস্থ পিতার বাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন ভেড়ামারার সাতবাড়ীয়ায়। শত অত্যাচারেও সেলিমকে আঁকড়ে সংসার জীবন চেয়েছিলেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে নূরজাহান আক্তার বৃষ্টি বলেন, বিয়ের আগে আমি হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলাম এবং নাম ছিল বৃষ্টি রায়। পিতার নাম প্রণব রায়, সাং তপসীডাঙ্গা, থানা ও জেলা যশোর। সেলিমের সঙ্গে ২০১০ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকার বাংলামোটরস্থ এসপিআরসি হাসপাতালে পরিচয় হয়। সেই সূত্রে মোবাইল ফোন নম্বর আদান-প্রদান এটুকু বলেই উদাস হয়ে যান বৃষ্টি। একটু পর শুরু করেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে বিভিন্ন সময় আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে ও ফুসলাতে থাকে।

এক পর্যায়ে আমি সেলিমের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে পিতার বাড়ি থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ওর (সেলিমের) সঙ্গে ২০১০ সালের ২রা নভেম্বর ভেড়ামারার সাতবাড়ীয়ায় আসি। এরপর নোটারি পাবলিকের হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করি। শুরু হয় তাদের সংসার জীবন। ফুরিয়ে আসতে থাকে বৃষ্টির আনা অর্থকড়ি। সেই সঙ্গে বদলাতে থাকে স্বামী সেলিমের আচরণ। যৌতুকের জন্য মাঝেমধ্যেই চাপ দিতে থাকে শাশুড়ি-দেবর। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন বৃষ্টি। ২০১১ সালের এপ্রিলে পিতার বাড়ি থেকে দু’লাখ টাকা এনে দেয়ার দাবিতে তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মেরে বৃষ্টির গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয় সেলিম। এভাবে গর্ভপাত হওয়ার ফলে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এর পর বৃষ্টির কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বাড়িতে আটকে রাখে। পরদিন পালিয়ে কুষ্টিয়া শহরের আয়েশা ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। ধর্মান্তরিত হওয়ায় অন্য কোনো আশ্রয় না থাকায় নিরুপায় হয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যায় বৃষ্টি। স্বামী সেলিমের সঙ্গে পুলিশ রিক্তার কতদিনের সম্পর্ক জানতে চাইলে বৃষ্টি বলেন, সম্ভবত ৬/৭ মাসের হবে। এখন আমার ওপর তার অত্যাচারের মাত্রা বেড়েছে। এ পর্যন্ত বলেই মাথার ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠেন বৃষ্টি, আর বলতে পারেন না।

এদিকে মামলার এজাহারে নূরজাহান আক্তার বৃষ্টি বলেছেন, গত ১লা মে রাত সাড়ে দশটার দিকে ভেড়ামারা থানাধীন সাতবাড়িয়াস্থ বাড়ির প্রধান গেট বন্ধ করে তার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে প্রচণ্ড মারপিট করে। পরদিন আমি মানবাধিকার সংস্থার সাহায্য নেয়ার জন্য গোপনে কুষ্টিয়াতে এলে সেলিম (স্বামী) জানতে পেরে শহরের পেয়ারা তলার (পুরাতন পাসপোর্ট অফিস ভবনের ৪র্থ তলার) ভাড়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ৩রা মে সেলিমের মোবাইল ফোনে সেলিম ও পুলিশ কনস্টেবল রিক্তা খাতুনের অবধ্য মেলামেশার ভিডিও দেখতে পাই।

এই বিষয় জানতে চাইলে সেলিম আমাকে বলে, তোমার পিতার কাছ থেকে দু’লাখ টাকা এনে দাও। অন্যথায় কনস্টেবল রিক্তা খাতুনকে বিয়ে করবে সে। পরে সেলিমের অনুপস্থিতির সুযোগে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলখানার মোড়ে মানবাধিকার সংস্থা অফিসের খোঁজ করি। এরপর ডক্টরস ল্যাবের সামনে থেকে সেলিম আমাকে জোর করে ধরে রিকশায় উঠিয়ে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়। এ সময় সে (সেলিম) তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করার ও কনস্টেবল রিক্তা খাতুনের সঙ্গে সম্পর্কটি মেনে নেয়ার অনুরোধ করে। এরপর রাত দশটার দিকে পৌর গোরস্তানের সামনে পৌঁছে আমাকে রিকশা থেকে নামিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে কিলঘুষি ও তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারতে থাকে। ওই সময় সাক্ষী ইকবাল, আক্তার ও রাসেলসহ পথচারীরা জড়ো হলে সেলিম মারপিট বন্ধ করে ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় আমাকে।

আবার রাত ১১টার দিকে তলপেটে লাথি মারে সেলিম। ফলে আমার প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। পরদিন সকালে সেলিম বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে আমি পালিয়ে খুলনার দৌলতপুরে বাবার বাড়ি যাই। আমার মা ও আত্মীয়-স্বজনরা ধর্মান্তরিত হওয়ায় আমাকে তাড়িয়ে দেয়। সে রাতে এক পরিচিতজনের বাড়িতে থেকে পরের দিন খুলনা থেকে কুষ্টিয়ায় ফিরে মজমপুরস্থ ‘কুষ্টিয়া স্টোর’ নামক তেলপাম্পের সামনে বাস থেকে নেমে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে যাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সংক্ষেপে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন আছে, তদন্তের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।-এমজমিন






মন্তব্য চালু নেই