মেইন ম্যেনু

ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশে ভাবমূর্তি সংকটে ভারত

ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশে ভারতের ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়েছে বলে দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু’র বিজনেসলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সাংবাদিক প্রতীম রাজন বোসের লেখা ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন তার মেয়েকে ভারতের বেঙ্গালুরু পাঠাতে চাইলে এজন্য তাকে ভিন্ন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক টোকেন (ই-টোকেন) সংগ্রহ করতে হয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ পদ্ধতি ভিসা পদ্ধতির বড় সমস্যা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিলবোর্ডে দেখা যায়, ‘ভারতের ভিসা ই-টোকেন করা হয়’। এটি বহু স্থানের বিলবোর্ডেই অতি সাধারণ দৃশ্য। যেকোনো মানুষকে জিজ্ঞেস করা হলেই তারা বলবে, ভারতীয় ভিসার এই আবেদন ব্যবস্থাটি জালিয়াতিতে পূর্ণ। যদিও এই আবেদনের ব্যবস্থাপনা করে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

আবেদনের অফিসিয়াল প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। প্রথমে অনলাইনে ভারতের ভিসা ফরম পূরণ করুন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) তৈরি হবে, যার মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনের ভিসা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের সাক্ষাতের সময় পেতে দিনে সর্বোচ্চ তিনবার চেষ্টা করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে বাণিজ্যিক এজেন্টদের মাধ্যমে না যাওয়া পর্যন্ত সাক্ষাতের সেই তারিখ পাওয়া যায় না। ফিসার ফি নির্ভর করে, ভিসা কতটা জরুরি তার ওপর।

এ বিষয়ে ঢাকাভিত্তিক একটি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানির নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘তিন বছর আগে এই শহরে (ঢাকা) ই-টোকেন এজেন্সিগুলো ডানা মেলতে থাকে। ছয় মাস আগেও সাক্ষাতের তারিখ নিজে থেকে পাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন এর সবই চলে গেছে এই ই-টোকেন সরবরাহকারীদের হাতে।’

qmRj1MLG778R

ঢাকায় অবস্থানরত ভারতের কর্মকর্তারা এ সমস্যার জন্য কম্পিউটারে ত্রুটি থাকার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। তাদের ভাষ্য, পদ্ধতিগত ত্রুটির বিষয়টি আইটি বিশেষজ্ঞদের নজরে আনা হয়েছে।

বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ভিসার চাহিদা ৭ হাজার। এর বিপরীতে ভিসা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার। এ সমস্যা সমাধানে কমপক্ষে ৩০ জন ভিসা কর্মকর্তা দরকার। সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশন ট্যুরিস্ট ভিসাপ্রার্থী বাদে বাকি সবাইকে হাইকমিশনে গিয়ে সাক্ষাতের তারিখ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এ উদ্যোগও সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয়।

ভারতীয় ভিসার এই জটিলতার কারণে অনেকে এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন।’






মন্তব্য চালু নেই