মেইন ম্যেনু

ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো শ্রীলংকা

বাংলাদেশিদের ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ না দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো শ্রীলংকা। হঠাৎ এই ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর দেশটির সরকার এখন তাদের ইমিগ্রেশনকে দুষছে। শ্রীলংকার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হর্ষ ডি সিলভা বলছেন, বাংলাদেশীদের জন্য ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শ্রীলংকার এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশও পাল্টা একই পদক্ষেপ নেয়। এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঢাকায় শ্রীলংকার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসাকেরাকে তলব করে। এসব পদক্ষেপ নেয়ার পরই শ্রীংলংকা সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলো।

বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ড. ডি সিলভা বলছেন, বাংলাদেশীদের ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ না দেয়ার কোন সিদ্ধান্ত তার সরকার নেয়নি।

ইমিগ্রেশন দফতরের প্রধান নিজের সিদ্ধান্তে এরকম একটি পদক্ষেপ নিলেও এখন তারা সেটি বাতিলের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বাংলাদেশিদের ‘অন অ্যারাইভাল’, অর্থাৎ বিমান বন্দরে নামার পর ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা বাতিল করায় শ্রীলংকার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশও শ্রীলংকার নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর রবিবার ঢাকায় শ্রীলংকার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসাকেরাকে তলব করা হয়েছিল।

কিন্তু এ বিষয়ে নিজের দেশের সিদ্ধান্ত বা অবস্থানের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হাইকমিশনার। বিবিসির সিনহালা সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলংকার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ডি সিলভা বলেন, ”এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন শ্রীলংকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রধান। তার এই সিদ্ধান্তে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা ইতোমধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে এটির সুরাহা করতে বলেছি।”

”তিনি এতে রাজী হয়েছেন। আমি আশা করছি বিষয়টির একটা সুরাহা ইতোমধ্যে করা হয়েছে।”

শ্রীলংকার পদক্ষেপের পাল্টা বাংলাদেশও যে শ্রীলংকার নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া বন্ধ করেছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”হ্যা, বাংলাদেশও একই পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু একটা দেশের একজন ব্যক্তি যখন ভুল করেন, তার মানে এই নয় যে সেদেশের সব মানুষ একই রকম।”

”বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই আমি ইমিগ্রেশন দফতরকে বলবো, তারা যেন এরকম কান্ড আর না করেন। এটা ছিল এক ভুল। আমরা কূটনৈতিকভাবে বিষয়টির সুরাহার করছি।”

এর আগে শ্রীলংকার সিলোন ডেইলি নিউজ এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেশটির ইমিগ্রেশন দপ্তরের ভিসা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কন্ট্রোলার এমবি উইরাসেকারাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশী নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই