মেইন ম্যেনু

ভিড় বেশি উত্তরের ট্রেনে

`ঈদ করতে নানু বাড়িতে যাই। গত রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম। ভোরে উঠে মায়ের সঙ্গে স্টেশনে আসছি। এবারের ঈদে সকলে মিলে অনেক আনন্দ করব।’

শনিবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস টেনটি ছাড়ার আগে সিটে বসেই কথাগুলো বলছিলো কিশোরী সুবা। মায়ের সঙ্গে গাইবান্ধায় নানা বাড়িতে যাচ্ছে সে।

মঙ্গলবার ঈদের তিন দিন আগে কমলাপুর স্টেশন পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। টিকিট কেটেও ট্রেনে নির্বিঘ্নে উঠার সুযোগ নেই। দরজা দিয়ে ঠেলাঠেলি করে যারা উঠতে পারছেন না, তাদেরকে জানলা দিয়ে উঠতে হচ্ছে কষ্ট করেই।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সবগুলো ট্রেনই ছাড়ছে উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে। তবে বেশি ভিগ উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে। যাত্রীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে ট্রেনে করে বাড়ি যাওয়ার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

শনিবার কমলাপুর স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচগুলির ভিতরে যাত্রীদের ঠাসা ভিড় লক্ষ করা গেছে। ট্রেনের ছাদেও তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই কমবেশি একই ধরনের ভিড় থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী প্রতিটি ট্রেনে ছাদে উঠা মানুষের সংখ্যা ছিলো বেশি।

রংপুর এক্সপ্রেসে গাইবান্ধা যাচ্ছেন সুবার আম্মা মাফরুহা হাসান মিতু। তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য আলাদা একটা টেনশন কাজ করে। কখন গাইবান্ধা পৌঁছবো, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবো, আর তর সইছে না।

দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেসে বগুরার শান্তাহার যাচ্ছেন সিমেন্স বাংলাদেশের কর্মী শুভ। তিনি বলেন, ‘টিকিট পেতে যত কষ্ট, সিটে বসতে যেন কষ্ট আরও বেশি। তবে বসতে পেরেছি এখন সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে। পথে যত কষ্টই হোক বাড়ি ফিরলেই সব ক্লান্তি দুর হয়ে যাবে।’

সকাল থেকে প্রায় সবগুলি ট্রেন সময়মত ছেড়ে গেলেও ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট দেরি করে ছাড়ে। এবং রংপুর এক্সপ্রেসও ৪০মিনিট দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছাড়ে।

কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘দুই একটি ছাড়া প্রায় সবগুলো ট্রেন সময়মত কমলাপুর ছেড়েছে। ঈদের কারণে যাত্রী বেশি হওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে অতিরিক্ত সময় দাঁড়ানোয় পৌঁছাতে একটু দেরি হয়। এ কারণেই কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে একটু দেরি হয়েছে।’

সিতাংশু জানান, প্রতিদিন কমলাপুর থেকে ৩১টি আন্তঃনগরসহ মোট ৬৯টি ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। এসব ট্রেনে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ কমলাপুর থেকেই উঠবে।






মন্তব্য চালু নেই