মেইন ম্যেনু

ভুতুড়ে শহর!

অগুনতি বহুতল ভবন, পাঁচ তারকা হোটেল, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, জমকালো পানশালা আর রাত নামলেই ঝলমলে আলোর ঝলকানি- এর সবই সেখানে। এসব পাবেন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে গেলে। অথচ এক দশক আগেও এটি ছিল প্রায় ভুতুড়ে শহর।

বিদেশি বিনিয়োগকারী তো দূরের কথা, খুব কম পর্যটকই সেখানে পা ফেলতে। এখন সেখানে চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের বড় বড় উদ্যোক্তারা হাত খুলে টাকা ঢালছেন। ফ্রান্সের উপনিবেশ থাকার সময়ও নমপেন ছিল খুবই আকর্ষণীয়।

ইউরোপীয় ধাঁচের প্রশস্ত রাস্তা, ছবির মতো বাড়িঘর আর নয়নাভিরাম উদ্যান। এসবে নমপেন একসময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর নগর ছিল। কিন্তু উগ্র বামপন্থী খেমাররুজ নেতা পল পট ১৯৭৫ সালে ক্ষমতায় বসার পর শহরটির ওপর দুর্ভোগ নেমে আসে।

২০ লাখ বাসিন্দাকে শহর ছেড়ে কৃষিকাজ করতে গ্রামে চলে যাওয়ার আদেশ দেয় খেমাররুজরা। কয়েক বছরেই ভুতুড়ে চেহারায় রূপ নেয় নমপেন। ১৯৭৯ সালে খেমাররুজদের পতনের পরও বেশ কয়েক বছর শহরটিতে স্থবিরতা ছিল। গত এক দশকে সুদিন ফিরে পেতে শুরু করে এ নগর। তবে এখন উন্নয়ন হচ্ছে তা এক কথায় চোখ ধাঁধানো।

নমপেনের প্রাণকেন্দ্রে সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে আয়েওন বিপণি কেন্দ্র। ২০ কোটি ডলার ব্যয়ে এটি বানিয়েছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান। ৩৯ তলার ‘ভাট্টানক ক্যাপিটাল টাওয়ার’ নমপেনের প্রথম আকাশচুম্বী ভবন। ২০১৪ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

ড্রাগনের আদল আর চীনের ঐতিহ্যবাহী ফেঙ সুই নির্মাণশৈলীর মিশেলে নির্মিত এ ভবনে রয়েছে আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা। এর কয়েক কিলোমিটার দূরেই ওভারসিজ কম্বোডিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ভবন।

প্যারিসের বিখ্যাত আকদু তিয়ঁফের আদলে নদীর তীরে বানানো এ স্থাপনা অনেক দূর থেকে মানুষের নজর কাড়ে। সভ্যতা আর প্রকৃতির মেলবন্ধনের কারণে ‘এশিয়ার মুক্তা’ হিসেবে যে খ্যাতি আছে নমপেনের তা করপোরেট উন্নয়নের কারণে হুমকির মুখে।






মন্তব্য চালু নেই