মেইন ম্যেনু

ডাকাতের হামলায় গুরুতর আহত গৃহকতাও মারা গেল

ভোলার চরফ্যাশনে ক্ষুদে সন্ত্রাসী দিয়ে গড়ে উঠছে বাতান বাহিনী

দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুও সাথে লড়াই করে রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে মারা গেলেন চরফ্যাশনের দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামের বৃদ্ধ মহিম আলী গাজী (৮০)। গত ২৩ মে সশস্ত্র ডাকাতদল তাকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে। এই ঘটনায় আগে মারাযান ওয়ার্ড শ্রমিকলীগ সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন, সভাপতি জাকির হোসেন ও তার ছোট ভাই লিটন।

এ নিয়ে ডাকাতের হামলায় মৃতের সংখ্যা ৪ জন দাড়িয়েছে। এ ডাকাতি ও চার খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে শনিবার রাতে ৪ সহযোগীসহ গ্রেফতারকৃত উপজেলা শ্রমিকলীগ যুগ্ন সম্পাদক কাসেম বাতানকে জেল হাজতে পাঠানোর পর তার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা ক্ষুদে সন্ত্রাসীরদল গা-ঢাকা দিয়েছে। কাসেম বাতানসহ গ্রেফতারকৃত ৫ জনকে দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামের ডাকাতি ও চার খুন, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে খদেজাবাগ গ্রামে অজ্ঞাত মহিলার খুন , গত এপ্রিল মাসে ওসমান গঞ্জে জাহাঙ্গীর জমাদারের বাড়িতে ডাকাতি এবং রোরবার সকালে চরফ্যাশন থানায় হামলা, সরকারী কাজে বাধা প্রদান,ও পুলিশকে মারধর মামলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

এসব মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ জনকে শীঘ্রই পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। পুলিশের উপর হামলার মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ জনসহ কাসেম বাতানের বড় ভাই জিন্নাগর ইউপি সদস্য কাজলের ছেলে সোহাগ বাতান , খোকন , সুজন এবং হেলালকে চিহ্নিত এবং ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। একাধিক খুন, ডাকাতি, ধষর্ণ, চাঁদাবাজী এবং পুলিশের উপর হামলার এসব মামলায় অন্তত অর্ধশত উঠতি বয়সের সন্ত্রাসীকে খুজছে বিভিন্ন আইন-শৃখলা বাহীনির সদস্যরা। আইন-শৃখলা বাহীনির অব্যহত ধরপাকরে দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামের চিহ্নিত চেনাজানা সন্ত্রাসীরা গা-ঢাকা দিয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র আরো জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামে পুলিশ অভিযান শুরু হয়। চার সঙ্গীসহ কাসেম বাতান গ্রেফতারের খবরে রোরবার বিকেলে দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামের মানুষ আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করে। আনন্দ মিছিল শেষ না হতেই ডাকাতের হামলায় গুরতর আহত ঢাকায় চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ মহিম আলী গাজীর মৃতুর সংবাদ ছড়িয়ে পরে।

সোমবার সকালে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থনে দাফন করা হয়। এদিকে কাসেম বাতান গ্রেফতারের পর তার বিভিন্ন অপকর্মের অজানা তথ্য আলোতে আসতে শুরু করছে। এক সময়ের রিক্রা চালক কাসেম বাতান আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসান পর রাতারাতি বড় নেতায় পরিনত হন। ক্ষমতাকে অনুকূলে রেখে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধষর্ণ, জমি দখলসহ নানন অপকর্মের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যান। শূণ্য থেকে লাক্ষপতি কোটিপতিতে উন্নীত হতে গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, কাসেম বাতানের এই বাহিনীতে অন্ততঃ অর্ধশত ক্ষুদে সন্ত্রাসী রয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর কাসেম বাতান হঠাৎ গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অপরাধ জগতে তার বিচরন শুরু হয় আরো অনেক আগে। ২০০৭ সনের ২৮ জুলাই দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামে জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধে বিবি হনুফা এবং বিবি আয়শাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এই জোড়া খুনের ঘটনার মামলায় সিআইডির চার্জশীটভূক্ত ৮ আসামীর মধ্যে কাসেম বাতানের নামও রয়েছে।

এদিকে কাসেম বাতানের গ্রেফতারের পরপর আওয়ামীলীগের সহোযোগী ও অংঙ্গ সংগঠনগুলো রোববার সন্ধায় চরফ্যাশন উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে সন্ত্রাসী কাসেম বাতানকে গ্রেফতার করায় উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও চরফ্যাশন পুলিশ প্রসাশনকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞাতা জানানো হয়েছে।

অপরদিকে কাসেম বাতানের অজানা বিভিন্ন অপকর্ম আলোতে আসায় পর তাকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কারের আওয়াজ ওঠছে। শীঘ্রই কাসেম বাতানকে দলের পদ-পদবী থেকে বহিস্কার করা হবে বলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সূত্র থেকে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই