মেইন ম্যেনু

ভোলার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি চরমে

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা: ভোলার লালমোহন,তজুমদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলায় চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে । এসব উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক ২৪ ঘন্টায় মধ্যে ঠিকমত ৫ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। এতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহকের।

একদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং অন্য দিকে প্রচন্ড গরমে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন গ্রাহকরা।জেলায় গ্যাস নির্ভর ২২৫ ও ৩৪ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকার পরেও প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে চরমভাবে ক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা।তবে বিদ্যুৎ অফিস গুলো বলছে, ঝড়-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন অজুহাতের কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিদ্যুৎ লাইনে কিছু ত্রুটি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিগ্ন ঘটছে।

তারা জানান,খুব শিগ্রই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য মতে, ভোলা জেলার লালমোহন, তজুমদ্দিনে ও চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক। এসব এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়ার্ট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১৪ মেগাওয়ার্ট। যে কারনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের মধ্যে ৩ ঘন্টা বেশী বিদ্যুৎ থাকছে না, অন্যদিকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বিদ্যুতের জন্য। এতে অসহ্য গরমে দিন কাটাচ্ছেন গ্রহকরা।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারনে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া বিগ্ন ঘটছে।ছোট বড় কারাখনা, ফ্যাক্টরী ও বরফকলাগুলো নিয়মিত উৎপাদনে যেতে পারছেনা। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা ।বিদ্যুৎ সংকটের কারনে পৌর এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহে বিগ্ন ঘটছে।

এছাড়াও বিদ্যুতের কারনে পড়ালেখাও ঠিকমত করতে পারছেনা কোমলমতী শিক্ষার্থীরা।লালমোহন ও তজুমদ্দিনের চেয়ে চরফ্যাশন উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেক বেশী বলে যায় জানা যায়।চরফ্যাশনে একাধিক গ্রাহক জানান, চরফ্যাশনে দিনের বেলায় প্রতি মুহুর্তে লোডশেডিং, রাতেও বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। প্রচন্ড গরমে নাজুক অবস্থা মানুষের। ২৪ ঘন্টায় ৫ ঘন্টাও বিদ্যুত মেলেনা। দিনের পর দিন এভাবেই চলছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়।

ব্যবসায়ী এনায়েত মিয়া বলেন, চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে, এতে আমাদের ব্যবাসয়ীর কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের আমরা ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছিনা।লালমোহন পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা বিগ্ন হলেও এখন স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার এনার্জি লি: ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, গত ফেব্রুয়ারী থেকে সাড়ে ৩৪ মেগাওয়ার্ট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সিডিউল ম্যান্টিনেন্সর কারনে বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় ১৮ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করছি।

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না হওয়াতে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে।এদিকে, গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলায় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকার পরেও কেন এতো বিদুৎ বিপর্যয়। এবং এ সমস্যার সমাধান হতে আর কত সময লাগবে এমন প্রশ্ন এখন গ্রাহকদের মাঝে।






মন্তব্য চালু নেই