মেইন ম্যেনু

ভোলায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় আ’লীগ

কামরুজ্জামান শাহীন, (চরফ্যাশন) ভোলা থেকে: ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলে একাধিক প্রার্থী থাকা নিয়ে বেকায়দায় পড়তে পারে ক্ষমতাসীন আ’লীগ। দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করেন দলের সিনিয়র নেতারা।

চলতি বছর মার্চের শেষের দিকে প্রথম দফায় ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রস্তুতির তোড়জোড় চলছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই আ’লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার আইন হওয়ায় পৌরসভার পর এবার ইউপি নির্বাচনও প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।দলীয় মনোনয়ন এবং দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ আসায় দলের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

অনেকেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানান স্থানীয় আ’ লীগ নেতারা।আ’লীগের বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে দলের প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি। কোনো কোনো ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৫/৬ করে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে প্রায় ৫ জন করে প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এসব প্রার্থীদের মধ্যথেকে একজনকে দলের মনোনয়ন দিলে ক’জন দলের সিদ্ধান্ত মানবেন বা ক’জনকে বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

জেলা আ’লীগের নেতারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়টি চিন্তার মধ্যে রেখেই গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাদেরকে ইতোমধ্যেই দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুধু বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াই নয় যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।আর যারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন, সহযোগিতা ও মদদ দিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ নেতা।ইউপি নির্বাচনেও এ কঠোর অবস্থান থাকলে কতটুকু সফলতা আসবে তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকদের।

এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সিনিয়র এক নেতার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, প্রার্থী যতোই থাক মনোনয়ন পাবেন একজন। যারা দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীহয়ে নির্বাচন করবেন তাদের ক্ষমা নেই। নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

যারা এটা করবে তাদের পৌরসভার বিদ্রোহীদের মতো পরিণতি হবে।পৌরসভায় শুধু বিদ্রোহী প্রার্থী নয়, বিদ্রোহী যারা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরও সাময়িক বহিষ্কা করা হয়েছে, চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

ইউপিতেও যারা এ ধরণের কাজ করবে তাদেরকেও দল থেকে বহিষ্কার হতে হবে বলে জানান। অনেক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন সত্য। তারা নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে কিন্তু মনোনয়ন পাবেন একজন যোগ্য প্রার্থী।

দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভা নির্বাচনে দল বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলে অনেকাংশে দল সফলও হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই