মেইন ম্যেনু

ভোলায় খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা

ভোলার কাচিয়ার খাল দখল করে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ চাষের ফলে খালের পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্রমেই মারা যাচ্ছে খালটি। বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও প্রশাসন নিশ্চুপ রয়েছে।

ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কাচিয়া খালে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের শাহমাদার গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্তা মুন্সী বাড়ির পুল থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খালে আড়াআড়িভাবে ৭-৮টি পাটাবাঁধ ও মাটির বাঁধ দেওয়া হয়েছে। দুপুরের দিকে ওই খালে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে গোসল করতেও দেখা গেছে। নদীভাঙুলী এসব লোকজন অভিযোগ করে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাচিয়ার খালের পানি গোসল ও রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। গত কয়েক বছর ধরে বাবুল, লোকমান, নিরব, ভাষানী, মালেক, লিটন, স্বপন, মিয়া তালুকদার, মনির মেম্বারসহ স্থানীয় প্রভাবশালী ১২ জন মিলে প্রশাসনের কোন অনুমতি না নিয়ে কাচিয়ার খাল দখল করে পাটাবাঁধ ও মাটির বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন। দখলবাজদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কাচিয়ার খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করার ফলে শুকনোও মৌসুমে খালে পানি চলাচল করতে পারবে না। তখন দুর্গন্ধে গোসল ও রান্নার কাজে এ খালের পানি আর ব্যবহার করা যাবে না। এলাকাবাসীর বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখানে শতাধিক কৃষক এ খালের পানিতে স্কিম দিয়ে কৃষিকাজ করছেন। প্রভাবশালী মহলের মাছ চাষের ফলে এসব কৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্তহচ্ছেন। কৃষকরা ইরি করতে পারছেন না কয়েক বছর ধরে। মাছ চাষিরা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মাছ চাষি ক্ষমতাসীন দলের নেতা লিটন জানান, তিনি এ খালে বাঁধ দিয়ে ৮০০ তেলাপিয়া মাছ, ১২০০ পাঙ্গাস মাছ, ১০০০ রুই-কাতলা মাছের চাষ করছেন। প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই তিনিসহ অন্তত ১২ জন মাছ চাষি গত কয়েক বছর ধরে এ খালে মাছ চাষ করছেন । তিনি আরো বলেন, বিগত ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে কাচিয়ার খালটি খনন হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি খালটি খনন করা হয়নি। এ ছাড়া গত দুই বছর আগে খালটিতে বাঁধ দেওয়ায় এ খালটি এখন মৃত্য প্রায়। তাই তারা ১২ জন মিলে ব্যবসায়ীকভাবে এ খালে মাছ চাষ করছেন।

ভোলা সদর উপজেলা কৃৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান কাচিয়ার খাল দখল করে পাটাবাঁধ ও মাটির বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ করার ফলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, খালে অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়ায় খালের পানি শুকিয়ে যাবে। তখন বিশেষ করে বোরো মৌসুমে কৃষকদের বোরো ধানচাষ ব্যাহত হবে।

অপরদিকে খালগুলো এভাবে দখল হয়ে গেলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছবে। কয়েকদিনের টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে ভোলার ৭টি উপজেলার নিন্ম এলাকা ডুবে গেছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন বলেন, উম্মুক্ত কাচিয়ার খালটি দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনবহির্ভূত। এ বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। দ্রুত খোঁজ নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি দখলমুক্ত করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই