মেইন ম্যেনু

ভোলায় ভাঙ্গছে রাক্ষুসী মেঘনায়, কাঁদছে মানুষ, বহু পরিবার গৃহহারা

ভোলায় রাক্ষুসী মেঘনায় ভাঙ্গন ঠেকাতে পাউবো চেষ্টা করে গেলেও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা ভাঙ্গন। নদী গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার ফলে ভাঙ্গনের তীব্র অনেক বেশী বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।গত ৪ দিনে ৩৫০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তবে, কেউ কেউ রাস্তার পাশে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।এদিকে, বৃহম্পতিবার ৪থ দিনের মত বন্ধ রয়েছে ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ফেরী চলাচল।

এতে ভোলার সাথে ২১ জেলার যোগাযো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।বিআইডব্লিটিএ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভাঙ্গন কবলিত ইলিশা ফেরীঘাট পরিদর্শন করে বিশ্বরোড এলাকায় ঘাটটি স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরোঘাট প্রস্তুতে ৭দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।চার দিন ধরে ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবহন শ্রমিক ও সাধারন যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। পন্য আনা নেয়ার বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।

বৃহম্পতিবার বিকালে ভোলা সদরের ইলিশা ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকারখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেরী এলাকা থেকে চডার মাথা পর্যান্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেঘনার প্রবল ভাঙ্গন। তবে, ফেরীঘাট থেকে বিশ্বরোড মৎস্যঘাট পয়েন্ট দিয়ে ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশী। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে সিসি ব্লক, ইলিশা সড়ক, দোকানপাঠ, মসজিদ, বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভোলা-লক্ষীপুর সংযোগ সড়ক রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলে ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

তবে, অন্যদিনের তুলনায় নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রনে থাকতে দেখা গেছে।ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘর বাড়ি, দোকানসহ বিভিন্নে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন নদীর তীরবর্তি মানুষ। যাদের মধ্যে বেশীরভাগই ভাঙ্গনের ফলে নি:স্ব হয়েছেন।এদের মধ্যে একজন মফিজুল ইসলাম নৌকা যোগে ঘর নেয়ার কাজে ব্যস্থ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্ত্রী ও ৩ সন্তাদের নিয়ে কোথায় যাবো কোন কুল-কিনারা পাচ্ছি না। জনতা বাজারে গিয়ে যদি কোন মাথা গোজার ঠাই পাই।

ভাঙ্গন কবলিত রফিজলের স্ত্রী শাহিনুর বেগম বেলন, নদীতে ঘর ভেঙ্গে গেছে, এখন রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে ঝুপড়ি ঘরে রয়েছি, সরকার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।মিনারা বেগম ৬ মেয়কে নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন জানিয়ে বলেন, বঙ্গের চর এলাকায় সব ছিলো, কিন্তুতে নদীতে নি:স্ব। আবার ভাঙ্গনে বসত ঘর শেষ, এখন কোথায় আশ্রয় নেয়ার কোন ঠিকানা নেই।

ঘরের মালামাল ও আসবাপত্র গুছানোর কাজ করছেন রুবেলের স্ত্রী তামলিমা। তিনি বলেন, জায়গা ছিলো, জমি ছিলো, পুকুর ছিলো, স্বাভাবিক ভাবে কাটছিলো দিন। কিন্তু রাক্ষুসী মেঘনা সব কেড়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় ফেরীঘাট এলাকায় ভাড়া করে স্বামী ও সন্তাদের নিয়ে কিছুদিন ছিলাম। কিন্তু ভাঙ্গনে সব শেষ, এখন কোথায় যাবো, তা বলতে পারছিনা। রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ দিনে ৫০টি দোকান, শতাধিত ঘরবাড়ি, একটি পারাপার ঘাট, ২ কিলোমিটার সড়ক, একটি মসজিদ, একটি মৎস্যঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে, ইলিশা জংসন বাজার, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি মৎস্যঘাট, পুলিশ ফাঁড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাজার হাজার একর জমি ও ৫টি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এলাকাবাসী জানায়, ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও খুবই শিগ্রই ঝূকির মুখে পড়বে ভোলা জেলা শহর।এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম বলেন, ৩২০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানের চেষ্টা করা হচ্ছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার ফলে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে।

কিন্তু দিন যত যাচ্ছে ততই মেঘনাকে নিয়ন্ত্রন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছেন।এদিকে, চার দিন ধরে বন্ধ থাকায় অচল হয়ে পড়েছে ইলিশা ফেরীঘাট। নেই শ্রমিক ও যাত্রীদের হাকডাক। কিছু কিছু যাত্রী নৌ যানে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন। কিন্তু চলছে যেতে পারছেনা কোন পরিবহন। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে ভোলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অর্থনৈতক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভোলা। কবে নাগাদ ফেরী সার্বিস চালু হবে তাও বলতে পারছেনা ফেরী কর্তৃপক্ষ। তবে, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, খুব দ্রুত ফেরীঘাট পরিবর্তন করা হবে। সে হিসাবে বিশ্বরোড এলাকা বেচে নেয়া হয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যেই ঘাট পুনরায় চালু হবে।তিনি বলেন, ইলিশা ফেরীঘাটটিকে আধুনিকায়ন করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। লো ওয়াটার, হাই ওয়াটার, পল্টুনসহ বিভিন্ন অবকাঠোমের উন্নয়ন করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই