মেইন ম্যেনু

ভোলা-লক্ষীপুর ফেরী রুটে নানা সমস্যা, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ডুবোচর আর অতিরিক্ত সময়, যানবাহনের দীর্ঘজট ও যাত্রীভোগান্তি সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে ভোলা-লক্ষীপুররুটের ফেরী চলাচল। এতে করে দক্ষিনাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী প্রতিনিয়িত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ফেরীঘাটটি স্থানান্তরিত করার ফলে বিশেষ করে ২৮ কিলোমিটার নৌ-পথের যায়গায় পাড়ি দিতে হচ্ছে ৭৩ কিলোমিটার। গত দেড় মাস ধরে এ অবস্থায় চলে আসছে। এতে করে ভোলা থেকে লক্ষীপুর যেতে ৪গুন সময় বেশী লাগছে।
সংশিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, ভোলার সাথে দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে চালু হয়েছিলো ভোলা-লক্ষীপুর ফেরী সার্ভিসটি। শুরু থেকেই জেলার অর্থনৈতক উন্নয়ন ও যোগাযোগ মাধ্যম সহজ হলেও একের পর এক জটিলতায় রুটটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। সর্বশেষ গত মাসে মেঘনার ভাঙ্গনের ফলে ইলিশা ফেরীঘাটটি বিলীন হয়ে যায়। তখন বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকল্প ব্যবস্থায় ভেদুরিয়া এলাকায় ফেরী চালু করে। এতে ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ২৮ কিলোমিটার পথের বিপরীতে ৭৩ কিলোমিটার পথ যেতে হচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, আগে যেখানে লক্ষীপুর যেতে সময় লাগতো ২ ঘন্টা বর্তমানে লাগছে ৮ থেকে ৯ঘন্টা। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় লাগছে অন্যদিকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বরিশাল হয়ে ঘুরে যাচ্ছে।
যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে লক্ষীপুর থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শুক্রবার বিকালে ভোলা ঘাটে এসে পৌঁছেছি। এভাবে চলতে থাকলে এ রুট থেকে যাত্রীরা মুখ ফিরিয়ে নিবে।
এদিকে, শুক্রবার ডুবোচরে আটক পড়ে কৃষানী নামের আরেকটি ফেরী। প্রায় ৪ঘন্টা পর জোয়ার এলে ফেরীটি ঘাটে এসে পৌছে।
শুক্রবার ভেদুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন পন্যবাহি ট্রাক ও পরিবহন পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে। ফেরী ঘাটের পাশে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের অপক্ষো। কেউ কেউ আবার ফেরী অপেক্ষা না কবরেই বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রলার ও স্পিড বোর্ট দিয়ে গন্তব্যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।
অরপদিকে, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষীপুর ফেরীঘাট একই স্থানে থাকায় ভেদুরিয়াঘাটে লেগে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা জানান, সুষ্ক মৌসুমকে কেন্দ্র করে নদীর নাব্যতা হৃাস পেয়েছে। এতে মাঝে মধ্যেই ডুবোচরে আটকরা পড়ছে ফেরী। ড্রেজিং না করলে যে কোন সময় রুটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যাত্রীদের দাবী, ফেরীঘাটটি ইলিশা এলাকায় নিয়ে এলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির অবসান হবে। অন্যথায় দীর্ঘ এ ভোগান্তির কারনে যে কোন সময় রুটটি যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিইসিটি ম্যানেজার আবু আলম জানান, নদী পানি কমে যাওয়ায় ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ইলিশা ঘাটটি পূর্বের স্থানে নিয়ে আসার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ইলিশা এলাকায় ফেরীঘাট স্থানান্তরিত করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই