মেইন ম্যেনু

ভ্যাট দাও, ভর্তুকি দিব!

একজন (শিক্ষার্থী) একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। আরেকজন খালি গায়ে চেয়ারের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হাত জোর করে বলছেন- ‘আমাকে কিছু ভ্যাট দাও, আমি ভর্তুকি দিব।’ চেয়ারে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী লাঠি হাতে তাকে গুঁতো দিচ্ছেন আর বলছেন- ‘ভ্যাট দিমু না।’

শিক্ষার্থী ‘ভ্যাট দিমু’ না বলার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা আটকে গোল হয়ে বসে থাকা সব শিক্ষার্থী চিল্লাতে চিল্লাতে বলছে, ‘ভ্যাট দিমু না’। আর চেয়ারের সামনের লোকটি বসে থেকে করুন গলায় বারবার বলে যাচ্ছেন ‘ভ্যাট দাও, ভর্তুকি দিব…।’

এটা ছিল শিক্ষার উপর আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাটের প্রতিবাদে করা একটি নাটিকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার জনগণ ও ছাত্র-ছাত্রীদের টাকা নিয়ে বিভিন্ন খাতে যে ভর্তুকি প্রদান করে সেটার একটা চিত্র। শিক্ষা থেকে কোনো প্রকার ভ্যাট নেয়া যাবে না এবং সে ভ্যাট দিয়ে কোনো লোকসানি খাতে যাতে ভর্তুকি না দেয়া হয় সেটার ওপরই নাটিকাটি সাজিয়েছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডের স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনে বসে ইউডা, ইউআইইউ, স্ট্যামফোর্ড, স্টেট ও বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করছে। আন্দোলনে ছিল নানা ধরনের স্লোগান।

আন্দোলন চলাকালে তাসমিয়া নামের কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এক ক্ষুদ্রে শিক্ষার্থী স্কুল ছুটির পর ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। আন্দোলন দেখে সেও ওখানে থেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। সে আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে মাইক চেয়ে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে ‘নো ভ্যাট, নো ভ্যাট…।’

আন্দোলনের বিষয়ে ইউডার এক শিক্ষার্থী প্রলয় বলেন, ‘আমরা তিনদিনের ঘোষণা দিয়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমেছি। এর মধ্যে সরকার দাবি না মানলে আমাদের আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।’

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে এ আন্দোলন সরাসরি সরকারের বিপক্ষে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিপক্ষে নয় বলে জানান স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্তৃপক্ষ এসেছিল আমাদের নিয়ে যেতে। কিন্তু আমরা আন্দোলন ছেড়ে যাইনি। কারণ এ আন্দোলন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিপক্ষে নয়, এটা সরকারের বিপক্ষে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় যদি বলে তোমাদের দাবি মেনে নিলাম, তাহলে কেন আমরা রাস্তা ছাড়বো?’

শিক্ষার্থীরা এ সময় বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছিল। যার মধ্যে রয়েছে- ‘রক্ত চাইলে রক্ত দেব, ভ্যাট ছাড়া শিক্ষা নেব’; ‘নো ভ্যাট, নো ভ্যাট’; ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষার ওপর ভ্যাট নয়’; ‘গুলি কর, তবু ভ্যাট দেব না’ ইত্যাদি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই